গরমে যখন-তখন ওআরএস খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ!

তীব্র দাবদাহ শুরু হতেই পাড়ার মোড় থেকে ওষুধের দোকান— সর্বত্রই ওআরএস (ORS) খাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। রোদ থেকে ফিরে একটু স্বস্তি পেতে কিংবা শিশুদের টিফিনে অনেকেই নিয়ম করে ওআরএস রাখছেন। চিকিৎসকদের মতে, ওআরএস কোনো সাধারণ এনার্জি ড্রিঙ্ক বা শক্তিবর্ধক পানীয় নয়; এটি মূলত একটি ওষুধ। শরীরের বিশেষ কিছু অবস্থায় এটি জীবনদায়ী হলেও, অপ্রয়োজনে বা ভুল মানুষের শরীরে এটি বিষের মতো কাজ করতে পারে।

কখন ওআরএস শরীরের জন্য জরুরি?

ওআরএস মূলত সোডিয়াম, পটাশিয়াম, গ্লুকোজ ও বাইকার্বনেটের একটি সুনির্দিষ্ট মিশ্রণ। এটি শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন রোধে অব্যর্থ। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে ডায়েরিয়া বা বারবার বমি হলে শরীর থেকে যে লবন ও জল বেরিয়ে যায়, তার ভারসাম্য ফেরাতে ওআরএস খাওয়া আবশ্যিক। এ ছাড়া অতিরিক্ত রোদে ঘেমে নেতিয়ে পড়লে, প্রবল জ্বর বা সংক্রমণের কারণে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে চিকিৎসকরা ওআরএস খাওয়ার পরামর্শ দেন। এমনকি ভারী ব্যায়ামের পর শরীরকে চাঙ্গা রাখতেও এটি বেশ কার্যকর।

যাঁদের জন্য ওআরএস হতে পারে প্রাণঘাতী

গরম লাগলেই তৃষ্ণা মেটাতে ওআরএস পান করা সবার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কিছু দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

  • কিডনি ও হার্টের রোগী: ওআরএস-এ সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা খুব বেশি থাকে। কিডনি অকেজো বা হার্ট ফেলিওরের সমস্যা থাকলে এই লবন ও জল শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।
  • ডায়াবেটিস: এতে থাকা গ্লুকোজ রক্তের শর্করার মাত্রা মুহূর্তের মধ্যে বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিপজ্জনক।
  • অজ্ঞান বা সংজ্ঞাহীন অবস্থা: কোনো ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁকে ভুলেও ওআরএস খাওয়ানো উচিত নয়। এতে তরল শ্বাসনালিতে ঢুকে গিয়ে মারাত্মক নিউমোনিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
  • মারাত্মক বমি: একনাগাড়ে বমি হতে থাকলে ওআরএস কোনো কাজে আসে না, বরং তা বমির বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আইভি ফ্লুইড বা স্যালাইনের প্রয়োজন হয়।

ভুল ব্যবহারের প্রভাব ও সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের শরীরে বাড়তি লবন ও চিনি প্রবেশের ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বা ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্রেফ তেষ্টা মেটাতে বা গরম থেকে বাঁচতে ওআরএস না খেয়ে সাধারণ জল, ডাব বা লেবুর শরবত খাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। শরীরের প্রয়োজন না বুঝে যখন-তখন ওআরএস খাওয়ার অভ্যাস উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *