কেরিয়ার গড়া স্বামীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, মাইলফলক রায়ে সমাজকে আয়না দেখাল সুপ্রিম কোর্ট
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও বিবাহিত নারীর স্বতন্ত্র পরিচিতি এবং পেশাগত স্বপ্নকে খাটো করে দেখার মানসিকতাকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, একজন স্ত্রী যদি নিজের কেরিয়ার বা পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেন, তবে সেটিকে কোনোভাবেই স্বামীর প্রতি ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ধরণের চিন্তাধারা কেবল অনুন্নত ও পিছিয়ে থাকা মানসিকতার পরিচয়ই দেয় না, বরং আধুনিক সমাজে অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা বনাম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
মামলাটি ছিল একজন দন্তচিকিৎসক স্ত্রী এবং তাঁর সেনা আধিকারিক স্বামীর মধ্যকার বিবাদ নিয়ে। স্ত্রী তাঁর পেশাগত প্র্যাকটিস এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে স্বামীর কর্মস্থলের বাইরে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিম্ন আদালত এবং হাইকোর্ট বিষয়টিকে ‘স্বামীকে ত্যাগ’ করার শামিল বললেও সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের মতে, স্ত্রী স্বামীর পরিবারের কোনো নিছক ‘অংশ’ বা ‘সংযোজন’ নন; তাঁর নিজস্ব বৌদ্ধিক ও পেশাগত সত্তা রয়েছে। উচ্চশিক্ষিত নারী কেবল দাম্পত্যের চার দেওয়ালে নিজেকে বন্দি রাখবেন, এমন প্রত্যাশা করা ভুল।
লিঙ্গবৈষম্য ও ঐতিহাসিক বিচার
আদালত এই মামলায় লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়টিও সামনে এনেছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, যদি পরিস্থিতি উল্টো হতো এবং স্ত্রীকে তাঁর চাকরির প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো, তবে কি সমাজ স্বামীর কাছ থেকে পেশা ছেড়ে স্ত্রীর অনুগামী হওয়ার আশা করত? এই দ্বিমুখী আচরণকে ‘সামন্ততান্ত্রিক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আদালত। যদিও দীর্ঘ তিক্ততা এবং স্বামীর পুনর্বিবাহের কারণে আইনি বিচ্ছেদ বহাল রাখা হয়েছে, তবে স্ত্রীর গায়ে লেপ্তে দেওয়া ‘নিষ্ঠুরতা’ বা ‘স্বামী ত্যাগের’ তকমা মুছে দিয়েছে আদালত। আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় কর্মজীবী নারীদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।