স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর, সরকার দিচ্ছে বিনামূল্যে ল্যাপটপ!
তামিলনাড়ুতে স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভেত্রি ল্যাপটপ প্রকল্প’-এর অনুমোদন ও নির্দেশিকা জারি
চেন্নাই: তামিলনাড়ু সরকার রাজ্যের স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য বহুপ্রতীক্ষিত ‘ভেত্রি ল্যাপটপ প্রকল্প’ (Vetri Laptop Scheme) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে এবং এর যোগ্যতা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। ২০২৬-২৭ সালের বাজেট অধিবেশনে ঘোষিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
প্রকল্পের পরিধি ও যোগ্যতা:
প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলা, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, পলিটেকনিক, আইটিআই, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ভেটেরিনারি সায়েন্স, মৎস্যবিজ্ঞান, কৃষি এবং আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই প্রকল্পের আওতায় ল্যাপটপ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া, পেশাগত কোর্সে অধ্যয়নরত যেসকল শিক্ষার্থী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ল্যাপটপ বিতরণ কর্মসূচির আওতাভুক্ত ছিলেন না, তাদেরকেও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও তদারকি:
ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত চাহিদার কথা মাথায় রেখে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টেল কোর আই-ফাইভ (Intel Core i5) প্রসেসর বা সমমানের বৈশিষ্ট্যযুক্ত ল্যাপটপ সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। ল্যাপটপ সংগ্রহের জন্য তামিলনাড়ু ইলেকট্রনিক্স কর্পোরেশনকে প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য যে, ‘ভেত্রি ল্যাপটপ প্রকল্প’টি ডিএমকে সরকারের পূর্ববর্তী উদ্যোগ ‘উলাগাম উনগাল কাইয়িল’-এর ধারাবাহিকতায় গ্রহণ করা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের আমলে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ২০ লাখ কলেজ পড়ুয়ার জন্য ২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী ল্যাপটপ পেয়েছিলেন। সে সময় মূলত তৃতীয় ও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া এবং ল্যাপটপের গায়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ও স্লোগান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সে সময় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান প্রকল্পটি সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন আঙ্গিকে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।