আদবানীর জন্মদিনে আবেগে ভাসলেন মোদী, স্মৃতিচারণায় উঠে এল রথযাত্রার সেই দিনগুলো!
শতবর্ষে পদার্পণ প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণীর, শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের প্রবীণ রাজনীতিক তথা বিজেপির অন্যতম প্রধান স্থপতি লালকৃষ্ণ আদবাণী আজ, ৮ নভেম্বর শতবর্ষে পদার্পণ করলেন। এই বিশেষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বিশেষ নিবন্ধের মাধ্যমে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আদবাণীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, আদর্শনিষ্ঠা এবং আধুনিক ভারতের গঠনে তাঁর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, কাকতালীয়ভাবে আদবাণীর শততম বছরের সূচনা হয়েছে দীপাবলির উৎসবে। একই সময়ে জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে, যা বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আদবাণীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, “আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে সবসময় আদবাণীজির স্নেহ, সান্নিধ্য ও পরামর্শ পেয়েছি।” দেশভাগের ভয়াবহতা সহ্য করেও তিক্ততা ভুলে শূন্য থেকে নতুন জীবন গড়ে তোলার অদম্য শক্তির জন্য তিনি আদবাণীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায়, “নেশন ফার্স্ট” বা “সবার উপরে রাষ্ট্র” নীতিই ছিল আদবাণীর রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি।
নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রীর আলোকপাত করা আদবাণীর প্রধান দিকগুলি হলো:
- রাজনৈতিক দূরদর্শিতা: ১৯৮৯ সালে আদবাণীর নেতৃত্বে বিজেপির উত্থান এবং কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ২০০-র নিচে নামিয়ে আনার বিষয়টি মোদী উল্লেখ করেছেন। ১৯৯৬ সালে বিজেপিকে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নেপথ্যে আদবাণীর সাংগঠনিক দক্ষতাকে তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন।
- আদর্শ ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বচ্ছতা: আদবাণীর আদর্শগত স্পষ্টতা এবং ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থানের কথা স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অটলবিহারী বাজপেয়ির সঙ্গে দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের সম্পর্ককে তিনি ভারতীয় রাজনীতির এক অনন্য নজির বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রশাসনিক দক্ষতা: ১৯৭৭ সালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে এবং পরবর্তীকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে আদবাণীর অবদানের প্রশংসা করেছেন মোদী। বিশেষ করে সন্ত্রাস দমনে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
- গণতন্ত্র রক্ষা: ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আদবাণীর লড়াই এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর ভূমিকা আজও প্রাসঙ্গিক বলে মোদী মত প্রকাশ করেন।
- রথযাত্রা ও রামমন্দির: সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত রথযাত্রাকে ভারতীয় রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রামমন্দির প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আদবাণীর অবিচল মানসিকতার কথাও তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেছেন।
আদবাণীর সাধারণ জীবনযাপন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ দলীয় কর্মী হিসেবে তাঁর মানসিকতার প্রশংসা করে মোদী জানান, গান্ধীনগরের ভোটার হিসেবে তিনিও বারবার আদবাণীকে সমর্থন করেছেন। পরিশেষে, আদবাণীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।