আদবানীর জন্মদিনে আবেগী মোদী, স্মৃতিতে ফিরল রথযাত্রার সেই দিনগুলো!

 

শতবর্ষে পদার্পণ প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণীর, শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা দেশের প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবাণী আজ ৮ নভেম্বর তাঁর জীবনের শততম বছরে পদার্পণ করলেন। এই বিশেষ উপলক্ষ্যে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে এক বার্তার পাশাপাশি আদবাণীর রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের ওপর একটি বিশেষ নিবন্ধও লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর দেব দীপাবলির দিনে জন্মগ্রহণকারী আদবাণীর এই শতবর্ষ উদযাপন দেশভাগের যন্ত্রণা থেকে উঠে এসে শূন্য হাতে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর এক অনন্য ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও দমে না গিয়ে নতুন জীবন গড়ার যে অদম্য মানসিকতা আদবাণী দেখিয়েছিলেন, তা পরবর্তীকালে জনসংঘ এবং বিজেপি গঠনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

আদবাণীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা কমিয়ে বিজেপিকে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন আদবাণী। ১৯৯৬ সালে বিজেপি দেশের বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মোদী তাঁর নিবন্ধে আদবাণীর দুটি প্রধান গুণের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন—আদর্শগত স্বচ্ছতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক তীক্ষ্ণতা এবং ভারতীয় রাজনীতির ‘ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতা’র প্রবণতাকে চিহ্নিত করার ক্ষমতা।

অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে আদবাণীর সুদীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই নেতার পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থান ভারতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭০ সালে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করা আদবাণী বিরোধী দলনেতা হিসেবেও অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। এছাড়া, জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর ভূমিকা এবং সোমনাথ থেকে অযোধ্যা রথযাত্রার মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের ভাবধারায় ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।

একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে আদবাণীর ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে মোদী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোয় দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখেছেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান ও নিরাপত্তা বাহিনীর উন্নয়নের কথা আজও স্মরণীয়।

প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন যে আদবাণীর স্নেহ ও সান্নিধ্য পেয়েছেন। ১৯৯১ সালে গান্ধীনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে আদবাণীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। পরিশেষে, আদবাণীর সাধারণ জীবনযাপন ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠাকে বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *