মেসির এক মাসের বেতনেই চলবে ৫ ক্লাব! এমএলএসে টাকার অঙ্ক শুনে চোখ কপালে
মাঠের লড়াইয়ে ড্রিবলিংয়ে কুপোকাত করেন প্রতিপক্ষকে, আর মাঠের বাইরে ডলারের লড়াইয়ে বাকিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন লিওনেল মেসি। মেজর লিগ সকার (এমএলএস) প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সর্বশেষ বেতন তালিকা অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা এখন আমেরিকান ফুটবলের অবিসংবাদিত আর্থিক রাজা। তাঁর নতুন চুক্তির অঙ্ক এতটাই বিশাল যে, লিগের অন্তত পাঁচটি ক্লাবের সম্মিলিত বাজেটের চেয়েও মেসির একার পারিশ্রমিক বেশি।
মেসি বনাম এমএলএস: আর্থিক বৈষম্যের নতুন সমীকরণ
লিওনেল মেসির বর্তমান বার্ষিক গ্যারান্টিড পারিশ্রমিক প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা, যা এমএলএসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিস্ময়কর তথ্য হলো, লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতনভোগী ফুটবলার লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি-র সন হিউং-মিনের আয় প্রায় ১১১ কোটি টাকা—যা মেসির অর্ধেকেরও কম। তালিকার ওপরের দিকে থাকা রদ্রিগো দে পল বা টমাস মুলারদের মতো তারকারাও মেসির আর্থিক উচ্চতার ধারেকাছে নেই। ইন্টার মায়ামি বর্তমানে তাদের স্কোয়াডের পেছনে খরচ করছে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা, যেখানে ফিলাডেলফিয়ার মতো ক্লাবের পুরো দলের খরচ মাত্র ১১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মেসি একাই একটি আস্ত ফুটবল অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন।
বয়স শুধুই সংখ্যা ও বাণিজ্যিক বিপ্লবের কারিগর
আগামী মাসে ৩৯ বছরে পা দিতে চলা মেসির পারফরম্যান্সে বয়সের ছাপ নেই। চলতি সিজনে ১১ ম্যাচে ৯ গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে পেতে ইন্টার মায়ামি ২০২৮ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি করেছে। মূলত মেসির আগমনেই এমএলএসের বিপণন মূল্য ও সম্প্রচার স্বত্ব আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল কোনো ফুটবলারের বেতন নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘বিজনেস মডেল’। তবে একজনের পেছনে এত বিপুল লগ্নি লিগের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে কি না, তা নিয়ে ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। আপাতত এমএলএস মানেই ‘মেসি প্রজেক্ট’, যেখানে টাকার খেলাতেও বাকিদের দশ গোল দিয়ে রেখেছেন এলএমটেন।