হোয়াট্সঅ্যাপে বিয়ের কার্ড খুলে বিপত্তি, নিমেষেই ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট সাফ ৫ লক্ষ টাকা!
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, সাইবার অপরাধীরাও তত অভিনব উপায়ে জাল বিছিয়ে চলেছে। এবার বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র বা ওয়েডিং ইনভিটেশন কার্ডকে হাতিয়ার করে বড়সড় প্রতারণার শিকার হলেন বেঙ্গালুরুর এক তরুণ ব্যবসায়ী। হোয়াট্সঅ্যাপে আসা একটি ফাইল ডাউনলোড করতেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল ৫ লক্ষ টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত
বেঙ্গালুরুর ৪২ বছর বয়সি ব্যবসায়ী নুর নাহিদ খান সম্প্রতি একটি অচেনা নম্বর থেকে হোয়াট্সঅ্যাপে একটি মেসেজ পান। অত্যন্ত বিনীত ভাষায় লেখা সেই মেসেজে তাঁকে একটি বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মেসেজটির সঙ্গে ছিল হৃদয়ের ইমোজি এবং ফুলের তোড়া, যা দেখে প্রাথমিকভবে একে সাধারণ কোনো নিমন্ত্রণপত্র বলেই মনে হয়েছিল। বার্তায় লেখা ছিল, অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্যের জন্য যেন সংযুক্ত ফাইলটি ডাউনলোড করা হয়।
কীভাবে কাজ করল এই ফাঁদ?
ব্যবসায়ী কৌতূহলবশত সেই ফাইলটি ডাউনলোড করতেই ঘটে বিপত্তি। আসলে সেই নিমন্ত্রণপত্রটি ছিল একটি .apk (এপিকে) ফাইল।
- এপিকে ফাইল কী? এটি সাধারণত অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে ব্যবহৃত হয়।
- বিপদ: সাইবার অপরাধীরা এই ধরনের এপিকে ফাইলের মধ্যে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ‘ম্যালওয়্যার’ লুকিয়ে রাখে। ফাইলটি ফোনে সেভ বা ইনস্টল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাকাররা ফোনের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায় এবং ব্যাঙ্কিং তথ্য চুরি করে অ্যাকাউন্ট সাফ করে দেয়।
নুর নাহিদ খানের ক্ষেত্রেও ফাইলটি ফোনে ইনস্টল হওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ লক্ষ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশি তৎপরতা ও সতর্কতা
ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সাধারণ মানুষকে এই ধরনের মেসেজ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
- অচেনা সোর্স: অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনো লিঙ্ক বা ফাইলে ক্লিক করবেন না।
- এপিকে ফাইল: গুগল প্লে স্টোর বা বিশ্বস্ত মাধ্যম ছাড়া কোনো এপিকে ফাইল ফোনে ইনস্টল করবেন না। বিশেষ করে যদি কোনো পরিচিত মেসেজের (যেমন বিয়ের কার্ড বা চাকরির খবর) সঙ্গে এমন ফাইল যুক্ত থাকে, তবে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
- অ্যান্টি-ভাইরাস: ফোনে সব সময় আপডেট করা অ্যান্টি-ভাইরাস ও সিকিউরিটি প্যাচ ব্যবহার করুন।
উৎসবের মরসুমে প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানানোর আবহে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়াল। আপনার ফোনেও কি এমন কোনো সন্দেহজনক ‘বিয়ের কার্ড’ এসেছে? খোলার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন!