ভাতের হাঁড়ি ফেলেছিল তৃণমূল, এক দশক পর প্রতিজ্ঞা ভেঙে অন্নগ্রহণ বিজেপি কর্মীর!
কোচবিহারের শীতলকুচিতে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভাত না খাওয়ার কঠোর প্রতিজ্ঞা শেষে অন্নগ্রহণ করলেন বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মন। দলীয় কর্মী ও স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে ভাত মুখে তুলে দেওয়া হয়। এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে থালায় ভাতের দলা মুখে তোলার সময় সুভাষের দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু।
অপমান বনাম দীর্ঘ এক দশকের জেদ ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে কোচবিহার লোকসভা উপনির্বাচনের সময়। শীতলকুচির ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের আওয়ালি কুড়া বুথের সক্রিয় বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মন অভিযোগ করেন, সেই সময় রাজনৈতিক আক্রোশে তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। এমনকি রান্নাঘরের ভাতের হাঁড়ি পর্যন্ত উঠোনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই চরম অপমানের মুহূর্তেই সুভাষ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এবং বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি অন্ন স্পর্শ করবেন না। গত ১০ বছর ধরে তিনি ভাতের পরিবর্তে রুটি বা অন্যান্য বিকল্প খাদ্য গ্রহণ করেই নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে চলেছিলেন।
পরিবর্তন ও স্বপ্নপূরণের স্বাদ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর সুভাষের সেই দীর্ঘ সংগ্রামের অবসান ঘটে। রবিবার শীতলকুচির ওই বুথ এলাকায় ঘটা করে অন্নগ্রহণের আয়োজন করা হয়। সুভাষের বাড়িতে আজও সযত্নে রাখা আছে সেই ভাঙা হাঁড়ি ও কড়াই, যা তাঁর এক দশকের নীরব অপমানের সাক্ষী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল আমলের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর সুভাষের এই অন্নগ্রহণ কেবল ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞাভঙ্গ নয়, বরং তা নিচুতলার কর্মীদের কাছে এক বড় মানসিক জয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে দলের কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি তৃণমূল স্তরে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির গভীর প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।