মমতা আমলের মনোনীত কর্তাদের ছাঁটাই, বড় প্রশাসনিক রদবদল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ক্ষমতায় আসার পরপরই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। সোমবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে নিযুক্ত সমস্ত মনোনীত সদস্য, বোর্ড ডিরেক্টর এবং চেয়ারম্যানদের পদ অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ৬০ বছর বয়সের পর যে সমস্ত আধিকারিক বর্ধিত মেয়াদে বা পুনরায় নিয়োগের ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন, তাঁদেরও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন।
প্রশাসনিক সংস্কার ও শৃঙ্খলায় জোর
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকারের অধীনস্থ সমস্ত অ-বিদিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি খাতের উদ্যোগ ও বোর্ডগুলোতে স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং বিভাগীয় সচিবদের দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রশাসনের শীর্ষস্তরে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই এই গণ-বরখাস্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও নতুন ঘোষণা
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প অবিলম্বে কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানো এবং রাজ্যে জনগণনা প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও মন্ত্রিসভা সবুজ সংকেত দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।