প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় যেন খামতি না থাকে, সিপি-কে কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর
রাজ্যের প্রশাসনিক রদবদলের আবহে সৌজন্যের রাজনীতি বজায় রাখলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আয়োজিত প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যেন কোনো রকম ত্রুটি বা খামতি না থাকে। শনিবার শপথ গ্রহণের পর সোমবারই প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন তিনি।
প্রটোকল ও নিরাপত্তা বজায় রাখার নির্দেশ
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের ‘সিজারস ব্যারিকেড’ ও অতিরিক্ত পুলিশি প্রহরা সরিয়ে নিয়েছিল লালবাজার। বর্তমানে ওই রাস্তাটি সাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত। তবে শুভেন্দু অধিকারী এদিন কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়ে জানান, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে স্তরের নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য, তা যেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা প্রদানকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রদবদল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। তাঁর ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এখন থেকে একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে যে স্তরের নিরাপত্তা বরাদ্দ থাকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সুবিধাই পাবেন। সোমবারই নবান্ন থেকে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সৌজন্য ও প্রশাসনের বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা প্রশাসনিক পেশাদারিত্ব ও সৌজন্যের মেলবন্ধন হিসেবে দেখছেন। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজ্যের ক্ষমতায় বসার পর, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছেন। তবে একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমিয়ে তিনি প্রশাসনিক খরচ ও নিয়মের কঠোর প্রয়োগের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, নতুন সরকারের অধীনে রাজ্যের ভিভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।