৩. শুভেন্দুর ঘরে একের পর এক তৃণমূল বিধায়ক, বাংলার রাজনীতিতে কি বড় ইঙ্গিত?
বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে বুধবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হলো। ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার পা রাখলেন ভবানীপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভা চত্বরে পৌঁছানোর পর এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিজের কনভয় থেকে নেমে বিধানসভার মূল ভবনে প্রবেশের আগে সিঁড়িতে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তাঁকে প্রথাগত ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। গত সোমবার নবান্নে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এদিন বিধানসভাতেও একই মেজাজে ধরা দিলেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি ও সৌজন্যের রাজনীতি
এদিনের সবথেকে বড় চমক ছিল বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে বিরোধী শিবিরের উপস্থিতি। নিজের জন্য বরাদ্দ ঘরে শুভেন্দু অধিকারী নিষ্ঠাভরে পুজো দেওয়ার পর সেখানে একে একে হাজির হন তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। সৌজন্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যে তাঁর ঘরে যান হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান এবং সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই সৌজন্য বিনিময় রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দীর্ঘ তিক্ততা সরিয়ে বিধানসভার অন্দরে এই নতুন সমীকরণ বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শপথ গ্রহণ ও নতুন মন্ত্রিসভার সূচনা
বেলা ঠিক ১১টা ৪ মিনিটে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে এসময় উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর মন্ত্রিসভার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু শপথ বাক্য পাঠ করেন। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া বিধানসভা চত্বরে দুই দিনব্যাপী এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দিনের এই অধিবেশনের মেজাজ এবং বিরোধীদের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজ্যে এক নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে যেখানে সংঘাতের চেয়ে সৌজন্য প্রাধান্য পেতে পারে।