দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তদন্তের পথ প্রশস্ত করে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই প্রশাসনিক স্তরে আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে বছরের পর বছর আটকে থাকা ফাইল থেকে আইনি জট সরিয়ে নিলেন তিনি। এর ফলে শিক্ষা, পুরসভা এবং সমবায়— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ কিংবা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর সামনে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী চারটি মামলার ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন, যার অনুলিপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার হাতে পৌঁছে গিয়েছে।
আটকে থাকা তদন্তে নতুন গতি
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি পদাধিকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা চার্জশিট পেশ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতির (স্যাংশন ফর প্রসিকিউশন) প্রয়োজন হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিদায়ী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক কারণেই এই অনুমতি প্রদান আটকে রেখেছিলেন। ফলে দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ হাতে থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এতদিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে পারছিলেন না। নতুন সরকারের এই ছাড়পত্র পাওয়ার ফলে শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি, পুরসভার নিয়োগ এবং সমবায় দফতরের আর্থিক অনিয়মের তদন্তে এখন নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কঠোর প্রশাসনিক অবস্থানের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং দুর্নীতির প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে সিবিআই-এর তদন্তের জালে বেশ কিছু প্রভাবশালী আমলা ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নাম জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজ করার অবাধ সুযোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একইসঙ্গে স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি এবং পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক নীতি বজায় রাখলেন।