নারী সংরক্ষণ বিল থেকে কেন বাদ পড়ল সীমানা পুনর্নির্ধারণ?
নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: অনিশ্চয়তায় বিলের ভবিষ্যৎ
২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা নিয়ে ভারতজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আইন অনুযায়ী নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল তাত্ত্বিকভাবে একমত হলেও, বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও শর্তাবলী নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অধিবেশনে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৫২টি ভোট না পাওয়ায় সরকারের সংশোধনী প্রস্তাবটি পাস হয়নি। সর্বশেষ ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ২৯৮ জন এবং বিপক্ষে ২৩০ জন সাংসদ ভোট দিয়েছেন। ফলে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও আইনটি কার্যকর হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’ সংক্রান্ত একটি বিশেষ শর্ত। সরকারের প্রস্তাবে ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৯ সালের মধ্যে নারী সংরক্ষণ চালুর কথা বলা হয়েছিল, যার ফলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮০০-র উপরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকেসহ বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটবে এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রভাব কমে যাবে। তাই তারা সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, সরকার এই সীমানা পুনর্নির্ধারণকে একটি অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তার অবস্থানে অনড় রয়েছে।