মমতা নাকি বিদ্রোহী সাংসদ, কার দখলে থাকবে আসল তৃণমূল!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। লোকসভার ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনের দলত্যাগ এবং রাজ্যের ৬০ জনেরও বেশি বিধায়কের বিদ্রোহের জেরে দল ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক রক্ষার লড়াই এখন নির্বাচন কমিশন ও আদালতের দ্বারপ্রান্তে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী সাংসদরা ত্রিপুরার ‘ন্যাশনালিস্ট জেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সঙ্গে একীভূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সংশোধিত দলত্যাগ বিরোধী আইনের নিয়ম অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য দলত্যাগ করায় তাঁরা আপাতত অযোগ্যতার হাত থেকে রক্ষা পেলেও, আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে শেল কোম্পানির মতো কৌশল হিসেবে দেখছেন।

এই সংকটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান আইনি ঢাল হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টের তিনটি ঐতিহাসিক রায়। সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্যপাল, ডঃ মহাচন্দ্র প্রসাদ সিং এবং রবি নায়েক মামলার রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, আইনসভা দল ও মূল রাজনৈতিক দল এক বিষয় নয় এবং সাংগঠনিক সম্মতি ছাড়া কেবল জনপ্রতিনিধিদের দল বদল দলত্যাগ হিসেবেই গণ্য হবে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির জুলাই মাসে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশন ‘সাদিক আলী’ মামলার মাপকাঠি অনুযায়ী দলের আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং দলের সংবিধানের ভিত্তিতে আসল তৃণমূল নির্ধারণ করবে। এই আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষই চূড়ান্ত আইনি স্বীকৃতি না পেলে দলের নাম ও সর্বজনবিদিত নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *