বঙ্গোপসাগরে পাক-চিন গোপন আঁতাত, ভারতের রাতের ঘুম কি উড়ল?

দীর্ঘ ৫৫ বছর পর চীনের সহায়তায় তৈরি অত্যাধুনিক ‘হ্যাঙ্গর ক্লাস’ সাবমেরিন হাতে পেয়ে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়েছে পাকিস্তান। গত এপ্রিলে চীনে কমিশনড হওয়ার পর সম্প্রতি সাবমেরিনটি পাকিস্তানের নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসলামাবাদ, যা ভারতের পূর্ব উপকূলের সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পাকিস্তান পর্যায়ক্রমে এমন আটটি সাবমেরিন নৌবাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।

এই সামরিক তৎপরতার অন্যতম প্রেক্ষাপট হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও সামরিক সখ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভারতের ওপর কৌশলগত চাপ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে ভারতের ইস্টার্ন নেভাল কমান্ড ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সামরিক ঘাঁটির অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগর ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি সাবমেরিনের উপস্থিতিতে আইনি বাধা না থাকলেও, চীনের সহায়তায় এই অঞ্চলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ভারতের গোয়েন্দা নজরদারির ওপর প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি শত্রু দেশের এই নিয়মিত আনাগোনা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের নৌবাহিনীর কৌশলগত সুবিধাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে, যা সামগ্রিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে জটিল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *