অটিজমের আসল রহস্য! জিন নাকি পরিবেশ, কী বলছে বিজ্ঞান?
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়ে বিজ্ঞান এক নতুন তথ্যের উন্মোচন করেছে। অডিওলজিস্ট ও স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট ড. মো. সাহিদুল আরেফিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অটিজম কোনো একক কারণের ফল নয়, বরং এটি মানব মস্তিষ্কের এক জটিল ও বহুমাত্রিক বিকাশপ্রক্রিয়া। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশগত প্রভাবের যৌথ মিথস্ক্রিয়ার ফলে শিশুর মস্তিষ্কের গঠনপ্রক্রিয়ায় এই অবস্থার সূত্রপাত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে জিনগত অবদানের হার প্রায় ৭৫ থেকে ৯২ শতাংশ, যেখানে শত শত জিনের সমন্বয় ভূমিকা রাখে। জিনের পাশাপাশি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে বিশেষ ওষুধের ব্যবহার, মায়ের শরীরে গুরুতর সংক্রমণ এবং গর্ভাবস্থার শেষের দিকে বায়ুদূষণের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি ভ্রূণের স্নায়ুবিক বিকাশকে প্রভাবিত করে। এসব কারণে মস্তিষ্কের নিউরন সংযোগ, ভাষা, সামাজিক যোগাযোগ ও সংবেদনশীলতার বিকাশ ভিন্নভাবে ঘটে। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, অটিজমের সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি কোনো ত্রুটিপূর্ণ লালন-পালনের ফল নয়; বরং এটি শিশুর স্নায়ুবিক বৈচিত্র্যের অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজকে এখন দোষারোপের মানসিকতা ত্যাগ করে দ্রুত শনাক্তকরণ, বৈজ্ঞানিক সচেতনতা এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে এই বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করতে হবে।