আর্তনাদ উপেক্ষা করে রিল বানানোয় মত্ত জনতা, তারাতলা কাণ্ডে চরম অমানবিকতার ছবি!
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ের ৭২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের বয়ানে উঠে এল ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। বুধবার দুপুরে ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকরা যখন বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিলেন, তখন স্থানীয় একাংশ উদ্ধারে এগিয়ে আসার বদলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বা ‘রিল’ তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অন্য কিছু স্থানীয় বাসিন্দা এবং সেনাবাহিনীর তৎপরতায় আটকে পড়াদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত গাফিলতি ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই এ বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন শ্রমিকরা। নিয়ম ভেঙে নিচের তলার কাজ শেষ না করেই তিনতলার ঢালাইয়ের কাজ শুরু করায় কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ নিয়ে সন্দেহ থাকলেও উপার্জনের বাধ্যবাধকতায় শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নির্মাণ সংস্থা ও আর্কিটেক্টকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন। নকশায় থাকা ত্রুটি খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরে অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে।