একুশের মঞ্চ কার দখলে, তৃণমূলের অন্দরে তুঙ্গে কোন্দল!

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত একুশে জুলাই: মঞ্চ দখলের লড়াই ও আইনি জটিলতা

তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে ক্ষমতার দ্বৈরথ প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ‘আসল তৃণমূল’ শিবির এবং অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির—উভয় পক্ষের রেষারেষিতে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী অংশকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ইতিমধ্যে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও, এলাকাটিতে ৬০ দিনের জমায়েত নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পক্ষ থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েন হাইকোর্টে মামলা করেছেন, যা বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মমতাপন্থী শিবিরের ভাইরাল পোস্টারে নির্দিষ্ট স্থানের পরিবর্তে ‘কলকাতা চলো’ ডাক দেওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন, তবুও অনুমতি না মেলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও কালীঘাট শিবির ভাবনাচিন্তা করছে। ১৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের স্মৃতিবাহী এই দিবসে একদিকে ঋতব্রত শিবিরের হাতে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেদ, সব মিলিয়ে এবারের একুশে জুলাই তৃণমূলের কাছে এক কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *