রথের দিন বৃষ্টি কি কাকতালীয়, নাকি দেবতার চোখের জল?
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম রথযাত্রার দিন বৃষ্টির ধারা দেখা যায়, যা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের এক গভীর বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রথ বেরোলেই বৃষ্টি নামে। ‘চৈতন্য চরিতামৃত’-এ এই বৃষ্টিকে দেবতাদের ভক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পৌরাণিক শাস্ত্র মতে, রথযাত্রার এই বারিধারা সাধারণ বৃষ্টি নয়, বরং ভগবান জগন্নাথ যখন মাসির বাড়িতে রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে বের হন, তখন দেবতাদের আনন্দাশ্রু বা পুষ্পবৃষ্টি হিসেবেই তা পৃথিবীতে ঝরে পড়ে।
এই অলৌকিক বিশ্বাসের নেপথ্যে রয়েছে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ও রানি গুন্ডিচার কাহিনি। কথিত আছে, রানির পরম নিষ্ঠায় তুষ্ট হয়ে জগন্নাথ দেব প্রতি বছর আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া থেকে দশমী পর্যন্ত গুন্ডিচা মন্দিরে বা মাসির বাড়িতে অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রানি গুন্ডিচার সেই ত্যাগ ও জগন্নাথ দেবের প্রতিশ্রুতির স্মৃতিবাহী এই রথযাত্রার দিনেই দেবতা রথে ওঠেন ও নামেন। সেই মুহূর্তেই স্বর্গ থেকে পুষ্পবৃষ্টি ঝরে পড়ে বলে ভক্তদের বিশ্বাস। বিজ্ঞানের যুক্তি ছাপিয়ে হাজার বছরের এই লোকবিশ্বাস আজও ভক্তদের কাছে রথের দিনের বৃষ্টিকে এক ঐশ্বরিক আশীর্বাদ হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।