পরিসীমন ইস্যুতে হোঁচট খেল সরকার জয়রাম রমেশের দাবি, এটি সংবিধান ও গণতন্ত্রের জয়

নারী আরক্ষণ বিলের আড়ালে পরিসীমন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। সম্প্রতি লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাস না হওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই ঘটনাকে সরকারের ‘নাপাক’ বা অশুভ পরিকল্পনার পরাজয় এবং সংবিধানের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নারী আরক্ষণের আড়ালে রাজনৈতিক এজেন্ডা

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মোদী সরকারের আসল লক্ষ্য নারী আরক্ষণ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করা। জয়রাম রমেশের মতে, সরকার নারী শক্তির নাম ব্যবহার করে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই নারী আরক্ষণ কার্যকর করার সুযোগ থাকলেও সরকার তা করেনি। অথচ গত ১৬ এপ্রিল হঠাৎ করে এই আইন নিয়ে তৎপরতা শুরু করা হয়, যা দীর্ঘ ৩০ মাস পর সরকারের কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভাঙার সামিল।

ব্যর্থ বিল এবং কংগ্রেসের কঠোর অবস্থান

শুক্রবার লোকসভায় ‘সংবিধান (১৩১তম) সংশোধনী বিল ২০২৬’ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না থাকায় এটি পাস করা সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি ‘পরিসীমন বিল ২০২৬’ এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বিধি (সংশোধন) বিল ২০২৬’ আলোচনা করার কথা থাকলেও সেগুলো এগোতে পারেনি।

তাৎক্ষণিক প্রয়োগের দাবি

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে যেন:

  • বর্তমান লোকসভা আসনের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই দ্রুত নারী আরক্ষণ কার্যকর করা হয়।
  • প্রয়োজনে মে মাসের শেষে বা আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে একটি নতুন সংশোধনী বিল আনা হোক।
  • কোনো রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে এবং আনুপাতিক হার বজায় রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

জাতিগত জনগণনা এবং সম্ভাব্য প্রভাব

বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে জাতিগত জনগণনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জয়রাম রমেশ। বিরোধীদের মতে, সরকার যদি সত্যিই নারী আরক্ষণ নিয়ে আন্তরিক হতো, তবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই তা বাস্তবায়ন করত। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি নারী শক্তির আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চাইছে, কিন্তু সচেতন নাগরিকরা সত্য বুঝতে পেরেছেন।

একঝলকে

  • লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বাতিল হয়ে গেল নারী আরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল।
  • বিরোধী দল কংগ্রেসের মতে, এটি সরকারের জনবিরোধী ও একতরফা ‘বুলডোজার রাজনীতির’ পরাজয়।
  • বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতেই অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা চালুর দাবি তোলা হয়েছে।
  • পরিসীমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো রাজ্যের আসন সংখ্যায় যাতে ভারসাম্যহীনতা না তৈরি হয়, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়ার দাবি।
  • আগামী ২০২৯ সালের নির্বাচনের পরিবর্তে ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপটেই এই অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *