ফ্ল্যাটের নামে প্রতারণা, এবার কি সুবিচার পাবেন ভুক্তভোগী?

বার্তা ডেস্কঃ

নিজস্ব সংবাদদাতা: নতুন সংসারের স্বপ্ন নিয়ে বুক বেঁধেছিলেন লেকটাউনের বাসিন্দা তনুশ্রী দাস। বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে একটি ফ্ল্যাট পছন্দ করে জমিয়ে রাখা ৫ লক্ষ টাকা অগ্রিমও দিয়ে দেন তিনি। কিন্তু বছর কেটে গেলেও সেই স্বপ্নের ফ্ল্যাট আজও তাঁর হাতছাড়া। অবশেষে আর কোনো উপায় না দেখে সুবিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হলেন ওই ভুক্তভোগী মহিলা।

তনুশ্রীর অভিযোগ, ২০১৭ সালে অগ্রিম টাকা দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ভোগান্তি। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত তাঁর পক্ষে রায় দিয়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নির্দেশ দিলেও প্রোমোটর তা মানেননি। পরবর্তীতে জানা যায়, টাকা নেওয়ার সময় যে নথিপত্র দেখানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। শুধু তাই নয়, লেকটাউন থানার পুলিশ ও অভিযুক্ত প্রোমোটরের মধ্যে আঁতাত ছিল বলেও দাবি করেন ওই মহিলা।

এমনকি যে জমিতে ফ্ল্যাট হওয়ার কথা ছিল, সেটিকে বর্তমানে ‘ডাম্প হাউস’ বা আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মামলা এসএলটি কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে তা খারিজ হয়ে যায়। তবে আদালত প্রোমোটরকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ জারি করে।

আইনি জটিলতা ও বছরের পর বছর ধরে চলা এই লড়াইয়ে ক্লান্ত হয়ে শেষমেশ রাজকীয় ক্ষমতার পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির হন তনুশ্রী দাস। প্রোমোটরের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ ও নিজের জমানো টাকার সঠিক বিচার চাওয়াই এখন তাঁর একমাত্র দাবি। এখন দেখার, ‘জনতার দরবারে’ গিয়ে এই প্রতারিত মহিলার জট কাটে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *