করোনার আড়ালে রক্ত ও প্লাজমা পাচার! নড়েচড়ে বসল রাজ্য, কড়া নজরদারিতে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলো
বার্তা ডেস্কঃ
করোনা মহামারী চলাকালীন প্লাজমা থেরাপির বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় শুরু হয় রক্ত ও প্লাজমার অসাধু কালোবাজারি। রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে নিয়ম ভেঙে ভিনরাজ্যে বিপুল দামে রক্ত ও রক্ত উপাদান পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে রক্তদান শিবিরের অভাবের সুযোগ নিয়ে তৈরি হয় এই অসাধু চক্র। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার লোভে ১,৫৫০ টাকার লোহিত রক্তকণিকা দ্বিগুণ দামে এবং ৫০০ টাকার প্লাজমা কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতে থাকে। তদন্তে নেমে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনস্থ স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল (এসবিটিসি) একাধিক আশঙ্কাজনক তথ্য উদ্ধার করেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, অসাধু ব্লাড ব্যাঙ্কগুলো এক ইউনিট প্লাজমার সাথে স্যালাইন ওয়াটার মিশিয়ে দুই থেকে তিন ইউনিট বানিয়ে ভিনরাজ্যে পাচার করত। এমনকি অতিরিক্ত প্লাজমা তৈরির লোভে রক্তদাতাদের অগোচরেই ৩৫০ মিলিলিটারের পরিবর্তে ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত সংগ্রহ করা হতো। মূলত বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোকে আকাশছোঁয়া দামে অ্যালবুমিন ও অন্যান্য ওষুধ তৈরির জন্য এই প্লাজমা সরবরাহ করা হতো, যার ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য রক্তের মারাত্মক সংকট দেখা দেয়। এই ভয়াবহ জালিয়াতি রুখতে স্বাস্থ্য দপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল ইতিমধ্যেই ডজনখানেক ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে এবং বেশ কয়েকটি সংস্থাকে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।