শহরের ইলেকট্রিক বক্স এখন স্মৃতির ক্যানভাস!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতার রাস্তায় কদর্য বিজ্ঞাপন বা পোস্টারের ভিড়ে এক সময় ইলেকট্রিক বক্সগুলোর অস্তিত্বই মলিন হয়ে গিয়েছিল। ‘পেয়িং গেস্ট’ কিংবা ‘বডি মাসাজ’-এর পোস্টারে ঢাকা সেই বক্সগুলোকেই শিল্পের ক্যানভাসে রূপান্তরের অভিনব উদ্যোগ নিয়েছিল ‘ট্রাইসিস’ কমিউনিকেশন। ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ শুরু হওয়া এই প্রয়াস ধীরে ধীরে রূপ নেয় সাংস্কৃতিক বিপ্লবে। সত্যজিৎ রায় থেকে মান্না দে—শহরের আইকনিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি আজ পথচলতি মানুষের চোখে একখণ্ড নস্টালজিয়া। তেলের রঙে আঁকা এই চিত্রকর্মগুলো কেবল রাস্তার সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং যত্রতত্র বিজ্ঞাপন সাঁটানোর দৌরাত্ম্য রুখে এক নীরব প্রতিবাদের ভাষাও তৈরি করেছে।

দশ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে শহরের চার শতাধিক বক্স আজ সেজে উঠেছে বরেণ্য গুণীজনের ম্যুরালে। রঞ্জিত চিত্রকরের মতো নিপুণ শিল্পীদের তুলির ছোঁয়ায় পান-গুটখার দাগ বা ভুয়ো বিজ্ঞাপনের বদলে জায়গা করে নিয়েছে নান্দনিক শিল্পকর্ম। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পে শর্ত একটাই, বক্সের নম্বর অটুট রাখা। উদ্যোক্তাদের কাছে মূল প্রাপ্তি কেবল অর্থ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মুগ্ধতা এবং শহরের শিকড়কে নতুন করে চিনে নেওয়ার আনন্দ। কদর্য বিজ্ঞাপন সরিয়ে রাস্তার ধারে শিল্পের এই অবাধ বিচরণ আজও কলকাতাকে নস্টালজিক আবেগে ভাসিয়ে রেখেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *