লালকেল্লায় মোদীর মন্তব্যে তোলপাড়, বিরোধীদের ‘নার্ভাস’ আক্রমণে সরগরম রাজনীতি!
বার্তা ডেস্কঃ
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। ভাষণের সময় প্রধানমন্ত্রীর ইতস্তত বোধ করা এবং ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যকে হাতিয়ার করে যৌথ আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (AAP)।
ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের ‘বায়োইকোনমি’ বা জৈব-অর্থনীতির অগ্রগতি সংক্রান্ত অংশে প্রধানমন্ত্রীকে কিছুটা থমকে যেতে এবং কাগজের নোটের সাহায্য নিতে দেখা যায়। সেই ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, “টেলিপ্রম্পটার ছাড়া সুপারহিউম্যান” late। অন্যদিকে একই ভিডিও শেয়ার করে আপ-প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল মন্তব্য করেন, “একজন আত্মবিশ্বাসহীন, নার্ভাস ও কম্পমান প্রধানমন্ত্রী”।
উল্লেখ্য, এবারের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রায় ৭৫ মিনিটের ভাষণ দেন, যা বিগত চার বছরের মধ্যে তাঁর সংক্ষিপ্ততম ভাষণ (যেখানে ২০২৩ সালে তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন প্রায় ৯০ মিনিট)। তবে সংক্ষিপ্ত হলেও এই ভাষণে এআই (AI), সেমিকন্ডাক্টর, নকশালবাদ, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প, উচ্চশিক্ষা ও কোচিং সেন্টারের মতো বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় উঠে আসে।
ভাষণে সশস্ত্র মাওবাদী হিংসার পতন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানে এখনও আদর্শগত নকশাল মানসিকতা রয়ে গিয়েছে। যুবসমাজকে অরাজকতার হাত থেকে বাঁচাতে এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত ও একঘরে করার ডাক দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ‘সস্তা রাজনীতি’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ। বিজেপির ব্যবহৃত পুরনো ‘আরবান নকশাল’ শব্দবন্ধের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে সংসদে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকই স্বীকার করেছিল যে ‘আরবান নকশাল’ বলে কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা অস্তিত্ব নেই। আর আজ সেই একই কথা লালকেল্লা থেকে ঘুরিয়ে বলছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে যে জাতিভিত্তিক গণনাকে ‘আরবান নকশাল’ চিন্তা বলা হতো, পরবর্তীকালে সরকার নিজেই তা গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া নারী সংরক্ষণ আইন ও প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসৎ ও কপট’ বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। জয়রাম রমেশ মনে করিয়ে দেন, ২০২৩ সালে সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হলেও মোদী সরকারের দ্বিচারিতার কারণেই ২০২৪-এর নির্বাচনে তা কার্যকর হয়নি। রাজনীতিতে নারীদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করার প্রকৃত কৃতিত্ব কংগ্রেস ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৭৩ ও ৭৪ নম্বর সংবিধান সংশোধনীরই অবদান।