আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণ: শাসক-বিরোধী তরজায় চাঞ্চল্য!
বার্তা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা রামপুরহাটের পাঁচবারের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রবিবার সকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় তাঁর বাড়ির সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রামপুরহাট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই তাঁর বাসভবনের সামনে শোকস্তব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীদের ভিড় জমে।
🔹 ‘খুব নিরীহ ও শান্ত মানুষ ছিলেন’: অনুব্রত মণ্ডল
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, “এত ভালো একজন মানুষ কেন এই চরম পদক্ষেপ করলেন, তা বুঝতে পারছি না। তাঁর কোন মানসিক চাপ ছিল না, কারও সাথে শত্রুতা বা ঝগড়াও ছিল না। তিনি কোনো দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে আমি বিশ্বাস করি না।” বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহাও জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আশিসবাবুর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির দাগ লাগেনি। কোনো গভীর মানসিক আঘাতের কারণে দুর্বল মুহূর্তে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
🔹 বিজেপি ও সংবাদমাধ্যমের একাংশকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম X-এ বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন। তিনি লেখেন, “আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণ কেবল হৃদয়বিদারক নয়, রাজনীতি ও সাংবাদিকতার নীতিশাস্ত্র নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে। সুইসাইড নোটে ধারাবাহিক অপপ্রচারের কথা উঠে এসেছে, যা তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল। সত্য প্রমাণিত হওয়ার আগেই সম্মান ও মর্যাদার তোয়াক্কা না করে যেভাবে জনসমক্ষে বিচার চালানো হয়, তার পরিণতি নিয়ে বিজেপি ও মিডিয়ার একাংশের ভেবে দেখা উচিত।”
🔹 নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বিজেপির
অন্যদিকে, এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তবে কেন একজন ২৫ বছরের বিধায়ককে আত্মহত্যা করতে হলো, পরিবারের কাউকে বাঁচানোর কোনো চাপ ছিল কি না—সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়া দরকার। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ এজেন্সি দিয়ে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের অকাল ও রহস্যজনক প্রয়াণ জেলা রাজনীতি তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও গভীর শোক ও জল্পনার সৃষ্টি করেছে।