টাকা চাই না, বাবার নামে স্কুল করে দিন! ছেলের এমন দাবিতে তোলপাড় ইন্দাস
বার্তা ডেস্কঃ
ইন্দাস: আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং রাজনীতি ও হিংসার বলি হওয়া বাবার স্মৃতিতে একটি স্কুল গড়ে তোলার দাবি জানালেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের তরুণ শেখ আব্দুল হাফিজ। সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমর্থক হওয়ার কারণে আব্দুল ও তাঁর পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই হামলায় গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান আব্দুলের বাবা, ৫০ বছর বয়সী শেখ মহম্মদ মাফিক।
সোমবার ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যান CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে, আব্দুল তা নিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। অশ্রুসজল চোখে আব্দুল জানান, তাঁর কোনো ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই—বদলে তাঁর প্রয়াত বাবার নামে এলাকায় একটি স্কুল তৈরি করে দেওয়া হোক।
ঘটনার পটভূমি: আব্দুল হাফিজের দাবি, গত ১৯ জুলাই দিল্লির যন্তরমন্তরে নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সিজেপি-র ডাকা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পর থেকেই তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে, ১২ আগস্ট দলের ‘স্কুল ঠিক করো কর্মসূচি’-র অধীনে স্থানীয় একটি স্কুলের পানীয় জল ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করেন আব্দুল।
অভিযোগ, এর পরপরই ১৩ আগস্ট গ্রামের কয়েকজন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী আব্দুলের বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁকে শাবল দিয়ে মারধর করা শুরু করলে ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে আসেন বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। দুষ্কৃতীরা তাঁকেও নির্মমভাবে পেটায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ইন্দাস হাসপাতাল এবং পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৫ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি: সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা যুবকের সামাজিক চেতনা ও পারিবারিক শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “ঘৃণার রাজনীতির শিকার হয়ে আব্দুল তার বাবাকে হারিয়েছে।”
তবে রাজনৈতিক তরজা উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, “এফআইআরে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ছিল না, দুষ্কৃতীদের কথা বলা হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত আইন অনুযায়ীই এগোচ্ছে।”