প্রাণ বাঁচাতে একে-৪৭ থেকে গুলি! সুপ্রিম কোর্টে ব্যাখ্যা বিহার পুলিশের

বার্তা ডেস্কঃ

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন দমনে পেলেট গান ব্যবহারের বিতর্ক থিতিয়ে যাওয়ার আগেই বিহারে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সামনে একে-৪৭ (AK-47) ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ওঠে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। বিহারের সিওয়ানের এই আলোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল রাজ্য পুলিশ।

পুলিশ আদালতের কাছে দাবি করেছে, বিক্ষোভের সময় উত্তেজিত পড়ুয়াদের ভিড়ে আটকে পড়েছিলেন এক কনস্টেবল। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে যে আত্মরক্ষার স্বার্থে বাধ্য হয়েই শূন্যে চার রাউন্ড একে-৪৭ ফায়ার করেন তিনি। তবে পুলিশের দাবি, এতে কেউ আহত হননি। যদিও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে বিক্ষোভ মোকাবিলায় এই ধরণের স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার মোটেও অনুচিত ছিল— তা স্বীকার করে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশের পদক্ষেপ ও নির্দেশিকা: এই ঘটনার পরেই অভিযুক্ত কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিহারের ডিজিপি (DGP) একে-৪৭ ব্যবহারের নিয়মে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন।

অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি ও গ্রেপ্তারির বিবরণ: আদালতে পেশ করা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সিওয়ানের ‘হাতিচক’ এলাকায় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (ASI) তাঁর ৯ এমএম পিস্তল থেকে দুই রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন, যার ফলে তিনজন বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হন।

রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে আন্দোলনকে ঘিরে মোট ৬৯টি এফআইআর (FIR) দায়ের হয় এবং প্রায় ৫০০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অপরাধের রেকর্ড না থাকা ২২২ জন আন্দোলনকারীকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের মাধ্যমে ৭৫ জন নাবালকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *