বিদেশে অঙ্গ পাচারের লোভে কিশোরকে খুন, ভোপালে চাঞ্চল্য!

বার্তা ডেস্কঃ

ভোপাল: বিদেশে মানুষের অঙ্গ পাচার করে রাতারাতি বিপুল অর্থ উপার্জনের এক পৈশাচিক ও অবাস্তব স্বপ্নের বলি হতে হলো ১৭ বছরের এক নিরপরাধ কিশোরকে। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত গোটা দেশ। কিশোরকে নির্মমভাবে খুন করার পর তার যৌনাংশ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস কাণ্ড ঘটাতে অপরাধীরা সাহায্য নিয়েছে ইন্টারনেটে থাকা নানা ভিডিওর। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে ৩ জন নাবালকসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে খুন: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য। মূল অভিযুক্ত জোয়েব এবং আমির মূলত আর্থিক দিক থেকে দুর্বল পরিবারের ওই কিশোরকে টার্গেট করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৫ অগস্ট তিন নাবালকের মাধ্যমে কিশোরটির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হয়। এরপর ৬ অগস্ট তাকে কোটিপতি বানানোর টোপ দিয়ে শ্যামলা হিলস এলাকায় ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার পর তার শরীর থেকে অঙ্গ কেটে ফেলা হয়।

ভিডিও দেখে অঙ্গ কাটার প্রশিক্ষণ: তদন্তকারীরা জানান, এর আগেও তিনবার ওই কিশোরের অঙ্গ কেটে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল অভিযুক্তরা। এরপর অভিযুক্ত আমির ইনস্টাগ্রামে পাওয়া একটি ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জোয়েবের কাছে পাঠায়। সেই ভিডিও দেখে চতুর্থবারের চেষ্টায় তারা নৃশংস কাজটি সম্পন্ন করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কিশোরের কোমরের দু’পাশে কাটা দাগ মেলায় পুলিশ সন্দেহ করছে যে, কিডনি বা লিভারের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গ বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলো অক্ষত পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক চক্র ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা: পুলিশের অনুমান, সংগৃহীত অঙ্গ বিদেশে পাচার করে বিপুল অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের। এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক বা দেশীয় পাচার চক্র জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত জোয়েবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১২ লক্ষ টাকার সন্ধান মেলায় চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে। এই টাকার উৎস খুঁজতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ব্রাউজিং হিস্ট্রি স্ক্যান করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি কেটে নেওয়া দেহাংশটি উদ্ধারে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *