লাই
বার্তা ডেস্কঃ
তারাপীঠের মর্মান্তিক লজ দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ নয়জনের মৃত্যুর পর পর্যটন ও পরিষেবা ক্ষেত্রের চরম গাফিলতির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য—অভিশপ্ত লজটি ২০০৬ সালে নির্মিত হলেও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোনো ‘সরাই লাইসেন্স’ ছাড়াই আইন ভেঙে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। ১৮৬৭ সালের ‘সরাই আইন’ অনুযায়ী পর্যটকদের সুরক্ষায় এই লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও তারাপীঠের অধিকাংশ হোটেলই তা মানছে না। দুর্ঘটনায় জরুরি মুহূর্তে হোটেলের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলিও সম্পূর্ণ অকেজো পাওয়া যায়। সংকীর্ণ গলির কারণে অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঢুকতেও চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে। অবৈধ ও বিপজ্জনকভাবে পরিচালিত ১৫টি হোটেল অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র না দেওয়ায় আরও ৯টি হোটেলের মালিককে শোকজ করে শুনানিতে তলব করেছেন মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোর। প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর জীবন বিপন্ন করে কীভাবে এতদিন ধরে প্রশাসনিক নজর এড়িয়ে এই অবৈধ লজ ব্যবসা চলছিল, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। কেবল সাময়িক নোটিস নয়, সমস্ত অবৈধ হোটেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি উঠে এসেছে।