শীতের আগেই ডেঙ্গির আতঙ্ক, স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যস্ততায় দিশেহারা রাজ্য!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর স্বাস্থ্য ভবনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখে দেওয়া। বর্ষা কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ ডালপালা মেলছে ডেঙ্গির বাহক এডিস মশার প্রভাব। জলপাইগুড়ির মাল ও মাতিয়ালি থেকে শুরু করে কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ বা পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে ডেঙ্গির প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের অগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন (পজ়িটিভ হিসেবে ১০ জন)। গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের হার কিছুটা কম মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, এবার টেস্টের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে আসল চিত্র সামনে আসছে না।
তবে এ বছর ডেঙ্গি মোকাবিলার পথে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রশাসনিক বাধা:
- জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি: রাজ্যের প্রায় সবকটি পুরসভা ও পুরনিগমে বর্তমানে কোনো নির্বাচিত বোর্ড নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির অবস্থাও একই। বিগত বছরগুলিতে কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত প্রধানেরা লার্ভা নিধন ও বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মূল নোডাল অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে প্রশাসকদের হাতে সব ভার থাকায় তৃণমূল স্তরে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট।
- আয়ুষ্মান ভারতের কাজ ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব: বর্তমানে পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরের বহু চিকিৎসক, আশা কর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্মী ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের ডেটা আপলোড ও যাচাইয়ের কাজে দিনভর ব্যস্ত থাকছেন। ফলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জল জমে থাকা বা জ্বরের খোঁজ নেওয়ার কাজ থমকে গেছে। তাছাড়া, বয়সসীমা সংক্রান্ত নির্দেশের কারণে হঠাৎ ৩৫ জন পুর-চিকিৎসকের চাকরি বাতিল হওয়ায় কলকাতার একাধিক বরোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট তৈরি হয়েছে।
- বিপজ্জনক ডেন-২ ও এল নিনোর প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর ডেঙ্গির ‘ডেন-২’ সেরোটাইপের আধিক্য বেশি, যা দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাছাড়া এল নিনোর প্রভাবে এ বছর শীত দেরিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গির উপদ্রব বজায় থাকতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরোধী ও বিশেষজ্ঞ মহল তীব্র সমালোচনা করলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুরবোর্ড না থাকলেও বিজেপির বিধায়করা প্রশাসনিক কাজ ও এলাকার ডেঙ্গি নজরদারির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আগামী তিন মাস স্বাস্থ্য ভবন পূর্ণ তৎপরতায় কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সিডিএসসিও (CDSCO) ডেঙ্গির নতুন ‘কোয়াড্রিভ্যালেন্ট’ টিকার অনুমোদন দেওয়ায় ভবিষ্যতে ডেঙ্গি প্রতিরোধের নতুন আশার আলো দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা।