শরীরের চেয়ে অনেক বড় নারীর সম্মান, জহর দৃশ্য নিয়ে বিস্ফোরক স্বরা ভাস্কর!

বার্তা ডেস্কঃ

২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পদ্মাবত’ সিনেমার ক্লাইম্যাক্স এবং পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালীকে লেখা তাঁর সেই বিতর্কিত খোলা চিঠি নিয়ে আবারও মুখ খুললেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। সম্প্রতি দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, কেন ছবির শেষ দৃশ্যের ‘জহর’ (সতীত্ব রক্ষায় আত্মাহুতি) উপস্থাপনা তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল।

দীপিকা পাড়ুকোন, শাহিদ কাপুর ও রণবীর সিং অভিনীত এই ছবিটি মুক্তির আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ছবির শেষে বহু নারীকে একসঙ্গে জহর পালন করতে দেখানো হয়, যা মেনে নিতে পারেননি স্বরা। অনুষ্ঠানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যৌন হিংসার শিকার কোনো নারী যদি এই ছবি দেখেন, তবে তিনি কী বার্তা পাবেন? স্বরার কথায়, “কেউ ধর্ষণের শিকার হলে এই ছবি কি তাঁকে বলবে যে সম্মান বাঁচাতে আত্মহত্যা না করাটা কাপুরুষতা? আমরা কি নির্যাতিতাদের বলতে চাই যে তাঁদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই? ধর্ষণই কি একজন নারীর জীবনের শেষ?”

বিশেষ করে জহরের দৃশ্য চলাকালীন এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটের ক্লোজ-আপ দেখানো নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান স্বরা। তিনি প্রশ্ন করেন, তবে কি ধরে নিতে হবে সেই অনাগত শিশুটিরও বেঁচে থাকার অধিকার নেই, কারণ ভবিষ্যতে সে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারে? অভিনেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য—নারীর অস্তিত্ব ও জীবনকে শুধুমাত্র যৌনতা বা তথাকথিত ‘সম্মান’-এর দাঁড়িপাল্লায় মাপা উচিত নয়।

স্বরা আরও জানান, সিনেমাটি দেখার পর আবেগের বশে হুট করে তিনি চিঠিটি লেখেননি; নিজের চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নিতে পাঁচ দিন অপেক্ষা করেছিলেন। ২০১৮ সালের সেই চিঠিতে তিনি জহরের মহিমাকীর্তন এবং যৌন নিপীড়নের পর নারীর জীবনের মূল্য কমে যাওয়ার ধারণার কড়া বিরোধিতা করেন।

তবে স্বরার অভিযোগ, তাঁর চিঠির পুরো বক্তব্যকে উপেক্ষা করে কেবল একটি নির্দিষ্ট বাক্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন, “নারীরা তাঁদের শরীরের ব্যক্তিগত অঙ্গের চেয়েও অনেক বড় কিছু।” কিন্তু প্রচারের আলো কাড়তে সংবাদমাধ্যমগুলো সেই একটি বাক্যকেই শিরোনাম বানিয়ে দেয়, আর মানুষ পুরো লেখা না পড়েই সমালোচনা শুরু করে।

স্বরার এই সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একদল মনে করছেন, মধ্যযুগের সামাজিক প্রেক্ষাপট ও বর্বরতার ইতিহাস বিবেচনা করেই ‘পদ্মাবত’-এর জহর দৃশ্যকে দেখা উচিত। অন্যদিকে, স্বরার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে অনেকেই বলছেন, নারীর মর্যাদা ও জীবনকে কেবল যৌনতার সঙ্গে জুড়ে দেখার বিরুদ্ধে এই প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *