প্রকৃতি নাকি যুদ্ধ, ইতিহাসের সেই ভয়াবহ জল-বিপর্যয় কি আমাদের শিক্ষা দিয়েছে?

বার্তা ডেস্কঃ

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগের মূলে রয়েছে বন্যা। শহর, পরিকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি এই বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে বহু প্রাণ। তবে সব বন্যা কিন্তু শুধু প্রাকৃতিক কারণে ঘটেনি—অতিবৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড়ের বাইরেও বাঁধ ভাঙা কিংবা যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে আটকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে নদীর বাঁধ ভেঙে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত লাখ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।

পুরনো শতকের দুর্যোগের সঠিক মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ তখনকার রেকর্ডে অনেক সময় সরাসরি জলে ডুবে মৃত্যুর পাশাপাশি পরবর্তী দুর্ভিক্ষ, মহামারী ও গৃহহীন হয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যাও ধরা হতো।

ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক কয়েকটি জল-বিপর্যয়:

  • ১৯৩১ সালের চিনের বন্যা: ইয়াংজি, হোয়াংহো ও হুয়াই নদীর প্লাবনে মধ্য চিনের বিশাল এলাকা জলমগ্ন হয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। এদের বড় অংশই মারা যান পরবর্তী অনাহার ও রোগে।
  • ১৮৮৭ সালের হোয়াংহো নদীর বন্যা: প্রবল বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।
  • ১৯৩৮ সালের হুয়ায়ুয়ানকৌ বাঁধ বিপর্যয়: দ্বিতীয় চিন-জাপান যুদ্ধের সময় জাজল সেনাদের আটকাতে চিনের জাতীয়তাবাদী বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বাঁধ ভেঙে দেয়, যাতে প্রায় ৯ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
  • ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন: তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) আঘাত হানা এই ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান।
  • ১৬৪২ সালের কাইফেং অবরোধ: সামরিক কৌশল হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে হোয়াংহো নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ হত্যা করা হয়।
  • অন্যান্য বড় বিপর্যয়: ১৯৭৫ সালে টাইফুন নিনার প্রভাবে চিনের বানকিয়াও বাঁধ ভেঙে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার এবং ১৯৭১ সালে ভিয়েতনামের রেড রিভার ডেল্টার বন্যায় প্রায় ১ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।

আধুনিক যুগের পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা দুর্যোগ মোকাবিলাকে অনেকটা সহজ করেছে। তবে চরম জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আজকেও মানবজাতি ঝুঁকির মুখে। ইতিহাসের এই ট্র্যাজেডিগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকাঠামো ও পূর্বপ্রস্তুতিই পারে একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগকে বিশাল মানবিক বিপর্যয় হওয়া থেকে রক্ষা করতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *