ধ্বংসস্তূপের মাঝে মসিহা প্রিয়া! শয়ে শয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে ইতিহাস গড়লেন নেপালের প্রথম মহিলা কপ্টার ক্যাপ্টেন
বার্তা ডেস্কঃ
বিধ্বংসী হড়পা বান ও ভূমিধসে তছনছ হয়ে যাওয়া নেপালে ত্রাতা হয়ে উঠেছেন দেশটির প্রথম মহিলা কপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। গত ২৬ আগস্টের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রসুয়া এবং নুয়াকোট জেলা। সড়ক ও সেতু যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গতদের উদ্ধারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে হেলিকপ্টার। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ৪১ বছর বয়সি প্রিয়া একটানা প্রায় ছ’দিন ধরে ১০০টিরও বেশি দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। সংকীর্ণ উপত্যকার বিপজ্জনক পরিবেশ এবং প্রতিকূল আবহাওয়াকে জয় করে তিনি মৃত্যুমুখ থেকে উদ্ধার করেন শয়ে শয়ে অসহায় মানুষকে।
দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ের উচ্চতম অঞ্চলে উদ্ধারকাজে যুক্ত থাকা অভিজ্ঞ এই পাইলটের কেরিয়ারের শুরুটা অবশ্য অন্যরকম ছিল। পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে কেবিন ক্রু হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও, প্রথমবার হেলিকপ্টারে চড়ার পরেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এরপর ফিলিপিন্স থেকে কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং প্রয়োজনীয় ফ্লাইং আওয়ার্স সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে পুরোদস্তুর পাইলট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া প্রিয়া চলতি বিপদের এই অভিযানকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই শৌর্য ও মানবিক প্রয়াস বর্তমানে গোটা নেপালজুড়ে তাঁকে ‘ঈশ্বরের দূত’-এর সম্মান এনে দিয়েছে।