আরব সাগরের অতলে নতুন দানব! বাঙালির নামে নাম পেল অতিকায় মাছ
বার্তা ডেস্কঃ
ভারতের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য গবেষণায় এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি ঘটেছে। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ZSI)-এর বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের তলদেশ থেকে সম্পূর্ণ নতুন এক প্রজাতির বিশাল আকারের স্কেট মাছ আবিষ্কার করেছেন। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এর নাম রাখা হয়েছে Dipturus dhritiae, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘অ্যারাবিয়ান স্কেট’ নামে পরিচিত হবে।
এই আবিষ্কারটি বিশেষ অর্থবহ, কারণ ZSI-এর ইতিহাসে প্রথম মহিলা অধিকর্তা বঙ্গতনয়া ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য নেতৃত্ব ও বিজ্ঞানচর্চায় অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রজাতিটির নাম তাঁর নামে রাখা হয়েছে।
ভারত সরকারের পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রকের ‘ডিপ ওসান মিশন’-এর আওতায় ‘ডিপ-সি কনড্রিকথিস অব ইন্ডিয়া’ শীর্ষক একটি যৌথ প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছিল। এই গবেষণায় ZSI-এর পাশাপাশি সেন্ট্রাল মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CMFRI) এবং কয়েকজন আন্তর্জাতিক গবেষক যুক্ত ছিলেন। কেরল উপকূলের প্রায় ৪২০ থেকে ৬০০ মিটার গভীর সমুদ্র থেকে মাছটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, Dipturus dhritiae প্রজাতিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৩১.৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো লেজের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পাঁচটি সারিতে বিশেষ কাঁটা রয়েছে, যা একে অন্য যেকোনো প্রজাতির স্কেট মাছ থেকে আলাদা করে। গবেষকরা জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই মাছটিকে ভুলবশত অন্য এক প্রজাতির অংশ বলে মনে করা হতো এবং বাণিজ্যিক ট্রলারগুলোতে দুর্ঘটনাবশত এটি ধরা পড়ত। পরবর্তীতে নিখুঁত জিনগত বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয় যে এটি একটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রজাতি।
গভীর সমুদ্রের হাঙর ও রে-জাতীয় প্রাণীদের বংশবৃদ্ধির হার অত্যন্ত ধীর হওয়ায় এদের সংরক্ষণ করা জরুরি বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারের ফলে ভারতের বিশাল সমুদ্রসীমার জীববৈচিত্র্যে এক নতুন মাইলফলক যুক্ত হলো।