১৩ বছরের হাহাকার, দিল্লি এইমসে কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ দেশ!
বার্তা ডেস্কঃ
দিল্লি এইমসে গাফিলতির চরম অভিযোগ: ১৩ বছর ধরে মিলল না অস্ত্রোপচারের তারিখ, ১৫ বছরের কিশোরীর করুণ মৃত্যুতে উত্তাল দেশ
দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর বিরুদ্ধে উঠল মারাত্মক গাফিলতি ও চরম দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ। জন্মগত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত ১৫ বছর বয়সী রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা তনভি পারিয়ানি নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এইমসের দরজায় দরজায় ঘুরেও একটি অস্ত্রোপচারের তারিখ মেলেনি, যার অভাবেই অবশেষে প্রাণ হারাতে হলো তাদের মেয়েকে।
পরিবার সূত্রে খবর, তনভির বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তাকে প্রথম দিল্লি এইমসে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। ২০১৪ সালের চিকিৎসা নথিতে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন এবং ২০১৫ সালে একটি সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হলেও তা বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৪ আগস্ট হার্ট-লাং ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রাথমিক প্রস্তুতির জন্য তাকে ভর্তি করানো হয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যায় একটি এন্ডোস্কপি করার পরপরই কিশোরীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ভোরে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নেমে আসে মাত্র ৪৮ শতাংশে এবং চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে তনভি।
মেয়ের এই করুণ পরিণতির পর এইমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বাবা মুকেশ পারিয়ানি। সঠিক জবাব ও বিচার না পাওয়া পর্যন্ত নিহতের মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পরিবারটি। অন্যদিকে, হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি—কিশোরীর ফুসফুসের ধমনী সঠিকভাবে গড়ে না ওঠায় অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে দেশের অন্যতম সেরা সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখে এমন মৃত্যুর ঘটনা ভারতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কর্মক্ষমতা নিয়ে ফের এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।