জলমগ্ন তিলোত্তমা, আজও কি তবে দুর্যোগের কালো মেঘ?
বার্তা ডেস্কঃ
সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত ও শক্তিশালী মৌসুমি বায়ুর যৌথ প্রভাবে কলকাতা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে থমকে রয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। আজ, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর), দিনভর আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কয়েক পশলা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গল ও বুধবারের মতো টানা প্রলয়ঙ্কারী দুর্যোগের আশঙ্কা কিছুটা কমলেও, দুপুর বা বিকেলের দিকে আচমকা তীব্র গতিতে নামতে পারে বৃষ্টি।
জলযন্ত্রণা ও গুমোট অস্বস্তি: চলতি সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথ ও নিচু এলাকা এখনো জলমগ্ন। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কুইন্সওয়ে, রেস কোর্স এলাকা থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ঠনঠনিয়া, উল্টোডাঙা আন্ডারপাস এবং দক্ষিণ কলকাতার বেহালা, কসবা ও যাদবপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে জল জমে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা (৭৯% থেকে ৯০%) বেশি থাকায় বৃষ্টি থামলেই চরম ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বহাল থাকবে।
জেলা ও উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি: কলকাতা ছাড়া হাওড়া, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে দিনভর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। বীরভূমের বোলপুর সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ইতিপূর্বেই ভারী বৃষ্টিতে জল জমে পরিস্থিতি বেশ নাজুক। বিকেলের দিকে বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও দুর্যোগ কাটার লক্ষণ নেই। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে আজ অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি, পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিং ও কালিম্পঙে লাগাতার বৃষ্টির ফলে পার্বত্য এলাকায় ধস নামার এবং পাহাড়ি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের জরুরি পরামর্শ: বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ শুরু হলে খোলা আকাশের নিচে কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে দাঁড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া জলমগ্ন রাস্তায় যাতায়াতের সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে খোলা ম্যানহোল কিংবা ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।