৯ দিনের অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে জন্মাষ্টমীতেই মুক্তি! কৃষ্ণ নামেই কি ঘটল অলৌকিক জয়?
বার্তা ডেস্কঃ
September 5, 202610:33 am
কথায় বলে— ‘রাখে হরি, মারে কে!’ সেই চিরন্তন সত্যেরই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটল নেপালের রাসুয়া জেলার ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। দীর্ঘ ৯ দিন ধরে এক অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকে থাকার পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলো দুই ব্যক্তিকে— ৩০ বছর বয়সী ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং ৪৫ বছর বয়সী মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবীর মহর্জনকে।
তবে এই অবিশ্বাস্য উদ্ধারের চেয়েও বেশি চর্চায় উঠে এসেছে সঞ্জয়ের একটি কথা। সুড়ঙ্গের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি তিনি; বরং আত্মবল ধরে রাখতে অবিরাম জপে গিয়েছেন ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্র। আর সেই প্রার্থনার ফলস্বরূপ, ঠিক শুভ জন্মাষ্টমীর দিনই তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হলো। কিন্তু এই ঘটনা কি শুধুই একটি কাকতালীয় সংযোগ, নাকি এর নেপথ্যে কাজ করেছে গভীর কোনো অলৌকিক শক্তি?
ঈশ্বর ও ভক্তের এই অমলিন সম্পর্কের উদাহরণ হিন্দু পুরাণে নতুন নয়। বিষ্ণুর নরসিংহ অবতার এবং ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিনী সেই বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেয়। পিতা হিরণ্যকশিপু ও পিসি হোলিকার অজস্র অত্যাচার এবং প্রাণনাশের চেষ্টা সত্ত্বেও প্রহ্লাদের বিষ্ণুভক্তি টলানো যায়নি। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও প্রহ্লাদ শুধু ঈশ্বরের নাম জপেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিষ্ণু নিজেই অবতীর্ণ হয়ে ভক্তকে রক্ষা করেন। সঞ্জয়দের এই বেঁচে ফেরার ঘটনা যেন সেই পৌরাণিক বিশ্বাসকেই নতুন করে ঝালিয়ে দিল।
উদ্ধারের পর সঞ্জয় সাহ জানান, সুড়ঙ্গের ভয়াল পরিস্থিতিতে মনকে শান্ত রাখতে ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্রই ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল। বৈষ্ণব শাস্ত্র অনুযায়ী, ১৬ অক্ষরের এই মহামন্ত্র— ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে’— জপ করলে মানুষের মন থেকে যাবতীয় নেতিবাচক চিন্তা দূর হয় এবং অসীম মানসিক শক্তির সঞ্চার ঘটে।
ভাদ্র মাসের অষ্টমী তিথিতে, যে শুভ লগ্নে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, ঠিক সেই দিনেই সঞ্জয় ও কবীরের সুড়ঙ্গ থেকে আলোয় ফিরে আসাকে নেহাত দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা হিসেবে দেখছেন না সাধারণ মানুষ। ভক্তদের মতে, এটি একনিষ্ঠ বিশ্বাস এবং ঈশ্বরের অপার কৃপারই এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।