তিন মাসে ১৮% রাজস্ব বৃদ্ধি, শুভেন্দু সরকারের কোষাগারে বড় স্বস্তি!
বার্তা ডেস্কঃ
September 5, 202611:34 am
ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রথম মাসেই মিলেছিল বড় ইতিবাচক ইঙ্গিত—আগের বছরের তুলনায় রাজ্যের কোষাগারে জমা হয়েছিল অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি টাকা। তবে সেই জোয়ার যে কেবল সাময়িক ছিল না, তা প্রমাণ করল প্রথম তিন মাসের সামগ্রিক পরিসংখ্যান। পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম তিন মাসেই রাজস্ব আদায়ের হার বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। সাড়ে ৭ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝা এবং ক্রমবর্ধমান সরকারি খরচের মাঝে নবান্নের জন্য এই পরিসংখ্যান এক বড় স্বস্তির বার্তা।
কীভাবে সম্ভব হলো এই সাফল্য?
অর্থ দপ্তর ও নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন কোনো কর না চাপিয়েই এই আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। এর পেছনে মূল কৌশলগুলো হলো:
- কর ফাঁকি ও ‘রেভিনিউ লিকেজ’ বন্ধ: রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
- কড়া নজরদারি: খনি, বালি ও পাথর খাদান থেকে সরকারি রয়্যালটি আদায় সুনিশ্চিত করতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- আদায়ের দক্ষতা বৃদ্ধি: স্টেট জিএসটি, আবগারি শুল্ক, স্ট্যাম্প ডিউটি, মোটর ভেহিকল ট্যাক্স এবং জ্বালানির ওপর ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা হয়েছে।
ঋণের চাপের মাঝে কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে রাজ্যের ঘাড়ে সাড়ে ৭ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ঋণ রয়েছে, যার সুদ মেটাতেই বড় অঙ্কের অর্থ চলে যায়। এছাড়া সামাজিক প্রকল্প, সরকারি কর্মীদের বেতন, পেনশন, মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যয় সামলাতে নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আড়াই মাসেই রাজস্ব আদায়ের হার ১৫ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা তিন মাস শেষে ১৮ শতাংশ ছুঁয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও অর্থনীতিবিদদের মত:
অর্থনীতিবিদদের মতে, নজরদারি বাড়িয়ে এবং কর ফাঁকি বন্ধ করে প্রাথমিক সাফল্য মিললেও, দীর্ঘমেয়াদে রাজস্বের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে রাজ্যজুড়ে নতুন শিল্পায়ন, ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা জরুরি।
আপাতত ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম তিন মাসের এই রেকর্ড আয় রাজ্য সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে এক নতুন দিশা ও বড় স্বস্তি দিয়েছে। এখন দেখার, পুরো অর্থবর্ষ জুড়েই রাজস্ব আদায়ের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি বজায় থাকে কি না।