দিল্লিতে হোস্টেল ধসে ৬ জনের মৃত্যু, কাঠগড়ায় প্রশাসন!

বার্তা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল আবাসন ধসে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত এই আবাসনটি মূলত হোস্টেল ও পেয়িং গেস্ট (PG) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এর নির্মাণশৈলী ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “একটি হোস্টেল এভাবে ভেঙে পড়ল এবং ছাত্রদের এমন পরিণতি হলো—এটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া দরকার। কারা এই দুর্বল বিল্ডিং তৈরি করেছিল এবং উপযুক্ত সুরক্ষা ছাড়া কেনই বা ছাত্ররা সেখানে থাকছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমার বিশ্বাস, সরকার এর কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

দুর্ঘটনাস্থল থেকে গভীর রাতে আরও একজনের দেহ উদ্ধার হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), দমকল এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।

এই বিপর্যয়ের পর রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বেআইনি পিজি, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ এবং অগ্নি-সুরক্ষা আইন অমান্য করার বিষয়টি ফের সামনে এসেছে। কংগ্রেস নেত্রী কুমারী শৈলজা এই ঘটনায় মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “কোচিং সেন্টারের মর্মান্তিক ঘটনার পরও সরকার কোনো শিক্ষা নেয়নি। অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মা-বাবারা সন্তানদের দিল্লিতে পাঠান। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? এখানে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে।”

এদিকে দিল্লি প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ আবাসনটি আগামী ৩ দিনের মধ্যে পুরোপুরি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মালিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি না ভাঙলে সরকার নিজ দায়িত্বে তা ভেঙে দেবে এবং এর সমস্ত খরচ মালিকের কাছ থেকেই জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *