আপনার বয়স ৩০, কিন্তু ফুসফুস ৬০-এর? অকাল বার্ধক্যের কারণ ও প্রতিকার জানুন!
বার্তা ডেস্কঃ
ক্যালেন্ডারের হিসাবে আপনার বয়স হয়তো ৩০ বা ৪০, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় আপনার ফুসফুসের বয়স হতে পারে ৬০ বছরের বৃদ্ধের সমান! এই বিষয়টিকে বলা হয় ‘লাং এজ’ বা ফুসফুসের বয়স। একজন সুস্থ মানুষের ফুসফুসের তুলনায় আপনার ফুসফুস কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, তা স্পাইরোমেট্রি (Spirometry) পরীক্ষার মাধ্যমে জানা সম্ভব।
কেন সময়ের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছে ফুসফুস?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের এই অকাল বার্ধক্যের পেছনে প্রধানত দায়ী কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস ও পরিবেশগত কারণ:
- ধূমপান ও পরোক্ষ ধোঁয়া: তামাকের ধোঁয়া ফুসফুসের কোষে মারাত্মক প্রদাহ ও ক্ষতি সৃষ্টি করে। নিজে ধূমপান না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের (Passive Smoking) শিকার হলে ক্ষতির আশঙ্কা একই থাকে।
- বায়ুদূষণ ও ঘরের ধোঁয়া: বাইরের বিষাক্ত গ্যাস ও ধুলোবালির পাশাপাশি ঘরের অপর্যাপ্ত হাওয়া-বাতাস কিংবা রান্নাঘরের ধোঁয়াও ফুসফুসের ব্যাপক ক্ষতি করে।
- কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি: নির্মাণকাজ, খনি বা রাসায়নিক কারখানায় উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করলে বিষাক্ত ধূলিকণা ফুসফুসে প্রবেশ করে স্থায়ী ক্ষতি করে।
- সংক্রমণ ও বংশগত কারণ: ছোটবেলায় বারবার ফুসফুসের সংক্রমণ হওয়া কিংবা জিনগত ত্রুটির কারণেও এই সমস্যা তৈরি হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
ফুসফুসের ক্ষতি শুরুর দিকে সহজে বোঝা যায় না। তবে সামান্য সিঁড়ি বাইতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠা, সামান্যতেই অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়া, হাঁটার গতি কমে যাওয়া কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা দিলে তা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এসব লক্ষণ প্রকাশ পেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নয়তো পরবর্তীতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।