ডুববে কলকাতা! জলবায়ু পরিবর্তনের মরণফাঁদে কি তলিয়ে যাবে শহর?
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20262:33 pm
নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ধসের ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পাহাড়ি এলাকার বাইরে এমন বিপর্যয় কি সমতল অঞ্চলেও ঘটতে পারে? বিশেষ করে কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নিচু বদ্বীপ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি প্যানেল (IPCC)-এর রিপোর্টে দক্ষিণ এশিয়ার উপকূলীয় ও নিচু শহরগুলির বন্যা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শহর হিসেবে উঠে এসেছে কলকাতা।
কলকাতা কেন বন্যার ঝুঁকিতে?
কলকাতা একটি নিচু ও সমতল ভূপ্রকৃতির বদ্বীপ অঞ্চল, যা হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত। এই শহরের বিস্তীর্ণ অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব বেশি উঁচুতে অবস্থান করছে না। ফলস্বরূপ, অতিবৃষ্টি, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, নিকাশি ব্যবস্থার উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি একসঙ্গে ঘটলে শহরের বিভিন্ন অংশে তীব্র জল জমার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নেপালের সঙ্গে কলকাতার পার্থক্য কোথায়?
নেপালের বন্যা এবং কলকাতার সম্ভাব্য জলমগ্নতার চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। নেপাল একটি পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির দেশ হওয়ায় সেখানে পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোত, হড়পা বান (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) এবং ভূমিধসের মতো বিপর্যয় ঘটে। অন্যদিকে, কলকাতার সমতল ভূমিতে নেপালের মতো হড়পা বানের কোনো সম্ভাবনা নেই। কলকাতার ক্ষেত্রে মূল বিপদ পাহাড়ি স্রোত নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং নগর বন্যা।
কলকাতার আসল বিপদ কোথায়?
অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে শহরের বহু পুরনো নিকাশি ব্যবস্থা অনেক সময়ই সেই জলের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। এর ফলে খুব দ্রুত জল জমে যায়। পাশাপাশি, হুগলি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, জোয়ার-ভাটা, নিম্নচাপ এবং অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি একই সময়ে তৈরি হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। এছাড়া শহরের যত্রতত্র কংক্রিটের জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় বৃষ্টির জল স্বাভাবিকভাবে মাটিতে শোষিত হওয়ার পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি ও করণীয়
নেপালের মতো পাহাড়ি হড়পা বান কলকাতায় না এলেও শহরটি যে সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত, এমনটা নয়। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারে কলকাতা। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত নগর পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। শহরের প্রাকৃতিক জলাভূমি ও জলধারণ ক্ষেত্রগুলি সংরক্ষণ, নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার মাধ্যমেই কেবল এই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব।