পুজোর পরেই বড় ধাক্কা, পুরভোটেও কি উধাও জোড়াফুল?
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20266:55 pm
উপনির্বাচনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কি আসন্ন পুরভোটেও ইভিএম থেকে উধাও থাকতে চলেছে চেনা ‘জোড়াফুল’ প্রতীক? সোমবার সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক এবং আসল দলের অধিকার কার হাতে থাকবে, সেই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ আদালত চার মাসের সময়সীমা ধার্য করায় বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক ধাক্কা খেল মমতার কালীঘাট শিবির।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নব তৃণমূল’ এবং মমতার নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট শিবির’—দুই পক্ষকেই নিজেদের সমস্ত নথি ও দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর সমস্ত বক্তব্য খতিয়ে দেখে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আইন ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে দুর্গাপুজোর পর কলকাতা ও হাওড়াসহ রাজ্যের আসন্ন পুরসভাগুলিতে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে লড়াই করার সম্ভাবনা আর কার্যত রইল না। কালীঘাট শিবিরের আইনজীবীরা চেয়েছিলেন অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটুক, যাতে জোড়াফুল প্রতীকেই পুরভোটে নামা যায়। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, লক্ষাধিক নথি পরীক্ষা করা এবং অন্যান্য রাজ্যের নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আদালত চার মাসের ডেডলাইন নির্দিষ্ট করে দেয়।
উল্লেখ্য, এর আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের সময়েই তৃণমূলের আসল নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ (স্থগিত) করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সে বার মমতা শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক ও ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দেওয়া হয়েছিল। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছিল ‘খাম’ প্রতীক ও ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা শিবির। কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া চার মাসের সময়সীমার কারণে, আসন্ন পুরভোটেও চেনা প্রতীক ছাড়াই ভোটের ময়দানে নামতে হতে পারে মমতা শিবিরকে।