নাবালিকা মা হতেই শ্রীঘরে যুবক, বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া বার্তা প্রশাসনের!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20266:30 pm
বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা মাতৃত্ব রুখতে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের মাঝেই ফের প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে এক নাবালিকা পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মেদিনীপুর ও কলকাতার পর এবার নাবালিকা মাতৃত্বের ঘটনায় কড়া পুলিশি পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল বাগদা।
হাসপাতাল থেকেই গ্রেপ্তার স্বামী সূত্রের খবর, প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে সম্প্রতি বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয় ওই কিশোরী। চিকিৎসার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, প্রসূতির বয়স মাত্র ১৭ বছর। সোমবার ওই নাবালিকা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। আঠারো বছরের নিচে মাতৃত্বের বিষয়টি সামনে আসতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বাগদা থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছয় এবং নাবালিকার ২৫ বছর বয়সী স্বামী সুভান দাসকে গ্রেপ্তার করে। কবে এবং কার উপস্থিতিতে ওই নাবালিকার বিয়ে হয়েছিল, তা জানতে জোরদার তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া প্রশাসন প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর নবান্ন থেকে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা মাতৃত্ব প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ১৮ বছরের নিচে কোনও কিশোরী সন্তানের জন্ম দিলে প্রশাসন কাউকে রেয়াত করবে না। নাবালিকাকে বিয়ের অপরাধে পকসো (POCSO) আইনে অভিযুক্তকে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই কঠোর বার্তার পর থেকেই নাবালিকা মাতৃত্বের ক্ষেত্রে রাজ্য জুড়ে প্রশাসনের ‘অপারেশন’ শুরু হয়েছে। মেদিনীপুর এবং কলকাতাতেও একাধিক গ্রেপ্তারি হয়েছে। বাগদার ঘটনা প্রমাণ করছে, নিয়ম ভাঙলে এবার আর পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।