আশ্রমে দেখা করতে দেওয়া হতো না! প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যের রহস্যমৃত্যুতে বিস্ফোরক পরিবার
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20266:42 pm
বৃন্দাবন: মথুরা-বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক প্যাটেল ওরফে রসিক দুলারি শরণের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার বৃন্দাবনের বরাহ ঘাট রোডের ‘গউ কৃপা কুঞ্জ আশ্রম’-এর ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতদেহের অবস্থা ও পুলিশের তদন্ত পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাদ থেকে আছড়ে পড়ার পর অন্য সাধু ও কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করলেও, মৃতদেহের গোপনাঙ্গ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত বা কাটা অবস্থায় পাওয়ায় ঘটনার মোড় ঘোরে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই ফরেনসিক টিমকে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, এই নির্দিষ্ট আশ্রমে প্রেমানন্দ মহারাজ নিজে থাকেন না।
পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘটনার খবর পেয়েই আশ্রমে পৌঁছান মৃত সাধুর পরিবারের সদস্যরা। দুলারি শরণের ভগ্নিপতি সোনু প্যাটেল সংবাদমাধ্যমের সামনে আশ্রম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ তোলেন:
- তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তি: আশ্রম থেকে পরিবারকে ফোন করে শুধু বলা হয়েছিল যে দুলারি ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন এবং তাঁর একটি অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন।
- ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা: ফোন পেয়ে পরিবার ভোরেই পৌঁছায়। কিন্তু ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁদের আশ্রমে বসিয়ে রাখা হয়। পরিবারের সাথে আশ্রমের কেউ দেখা করেনি বা প্রকৃত ঘটনা জানায়নি।
- সাক্ষাতে বাধা: ২০২৪ সাল থেকে দুলারি এই আশ্রমে থাকতেন। পরিবারের দাবি, অতীতেও যখনই স্বজনরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, তাঁদের ৩-৪ দিন ধরে ঘোরানো হতো এবং শেষ পর্যন্ত দেখা করতে দেওয়া হতো না।
প্রশ্নের মুখে আশ্রম কর্তৃপক্ষ দুলারির মৃত্যু দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু—তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পরিবার এখনও লিখিত পুলিশি অভিযোগ দায়ের না করলেও, ঘটনার পর স্বজনদের সঠিক তথ্য জানাতে আশ্রম কেন এত সময় নিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। আপাতত সমস্ত দিক খোলা রেখেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।