১৫ বছরের অন্যায় স্বীকার করুন! কেষ্টর অফিসে তাণ্ডব, রণক্ষেত্র এলাকা

বার্তা ডেস্কঃ

সিউড়ি: দীর্ঘ চার মাস পর সিউড়ির জেলা কার্যালয়ে পা রেখেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু সেখানে পা রাখতেই ঘনিয়ে এল চরম বিপত্তি! মুখ বেঁধে, হাতে মোটা কাঠের ডাল ও চ্যালা কাঠ নিয়ে জেলা তৃণমূল অফিসে তাণ্ডব চালাল একদল যুবক। শুধুই ভাঙচুর বা হুমকি নয়, হামলাকারীদের সামনে দাঁড়িয়ে অনুব্রত মণ্ডলের এক বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি!

ঠিক কী ঘটেছিল? বিকেল প্রায় ৫টা। সিউড়ির কার্যালয়ের দোতলায় বিশেষ ঘরে বসেছিলেন কেষ্ট। আচমকাই মুখে কাপড় বাঁধা কয়েকজন যুবক সোজাসুজি ঘরে ঢুকে পড়ে। অনুব্রতকে লক্ষ্য করে উঁচিয়ে ধরা হয় লাঠি। চোখের নিমেষে শুরু হয় ভাঙচুর! টেবিলের ওপর রাখা এসিতে সজোরে আঘাত করা হয়, চুরমার হয়ে যায় টেবিলের কাচ। কাচের টুকরো ছিটকে এসে লাগে অনুব্রতর গায়ে, লাঠির আঘাতে চোখের কোণে চোট পান তিনি। এমনকি চটি দেখিয়ে, ডিম ছোঁড়ার হুমকিও দেয় ওই যুবকরা।

“আমি অভিষেককে পছন্দ করি না…” হামলা চলাকালীন একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় ভাইরাল। সেখানে যুবকদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “স্বীকার করুন, ১৫ বছর ধরে আপনি অন্যায় অত্যাচার করেছেন!” এর পরপরই হামলাকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তুলতেই মেজাজ হারান কেষ্ট। স্পষ্ট গলায় কেটে কেটে তিনবার বলে ওঠেন— “আমি অভিষেককে পছন্দ করি না, করি না, করি না!”

নেপথ্যে কী দলের ভেতরের ঠান্ডা লড়াই? অনুব্রত মণ্ডল বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্ধ অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তবে কেষ্ট জেলে থাকাকালীন বীরভূমে কাজল শেখ ও কোর কমিটির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যেখানে স্পষ্ট ছাপ ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জেল থেকে ফেরার পর রামপুরহাটে অভিষেকের গাড়িতে অনুব্রতকে উঠতে দেখা গেলেও, দুজনের সম্পর্কের বরফ যে গলেনি তা স্পষ্ট।

সিউড়ির অফিসে মুখ ঢাকা যুবকদের এই আক্রমণ আর অনুব্রতর মুখের এই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া— সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরের পুরানো ‘ঠান্ডা লড়াই’ আবার নতুন করে প্রকাশ্যে এল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *