কয়েক মাসের মধ্যেই তীব্র খাদ্যসঙ্কট! জয়শঙ্করের আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব
বার্তা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর বিরূপ প্রকৃতির জোড়া ধাক্কায় পিসে আসছে এক ভয়াবহ খাদ্যসঙ্কট। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ইউরোপ থেকে এশিয়া—বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে থাবা বসাতে চলেছে চরম অনাহার। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এমনই আশঙ্কাজনক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
কূটনীতিক ও মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা জয়শঙ্করের। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর এই সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করে জোর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
‘৪F’ সঙ্কটে থমকেছে বিশ্ব
ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক মারাত্মক ‘৪F’ সংকট তৈরি হয়েছে—
- Food (খাদ্য)
- Fertilizer (সার)
- Fuel (জ্বালানি)
- Finance (অর্থ)
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্যের জাহাজ চলাচল বন্ধ। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান ও হুথি-সৌদি সংঘাতের প্রভাব পড়েছে খনিজ তেল ও রাসায়নিক সার উৎপাদনে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ হয়, যা এখন কার্যত ব্যাহত। সারের অভাবে ইউরোপের দেশগুলিতেও কৃষি উৎপাদন ধাক্কা খেয়েছে। বেলজিয়ামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে এ নিয়ে আলোড়ন হলেও অভ্যন্তরীণ স্বার্থের দ্বন্দ্বে মেলেনি সমাধান।
পেটে লাথি পড়বে গরিব ও মধ্যবিত্তের
যুদ্ধের পাশাপাশি আগুনে ঘি ঢেলেছে প্রকৃতির তাণ্ডব—‘সুপার এল নিনো’। অনাবৃষ্টি ও আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনায় বিশ্বজুড়ে ফসলের ফলন কমছে। ধনী দেশগুলি নিজেদের চাহিদা কোনোমতে সামলে নিলেও, এর চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সাধারণ মানুষকে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, আমেরিকার মানবিক ত্রাণ (USAID) কমানো এবং যুদ্ধের ডামাডোলে পুষ্টির সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হচ্ছে কোটি কোটি পরিবার।
অনাহারের মুখে কোন কোন দেশ?
রাষ্ট্রসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ৮৩০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬৬ কোটি মানুষ অনাহার বা চরম পুষ্টিহীনতার শিকার। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জনের ৩ জন কার্যত না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
- সংকটজনক দেশ: গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, হাইতি এবং আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে।
- প্রতিবেশী পাকিস্তানের হাল: পাকিস্তানের প্রতি ১০ জনের ৪ জন অভুক্ত। বাধ্য হয়ে মানুষ ঘরের আসবাবপত্র বেচে পেটের ভাত জোগাড় করছে। শিশুদের মধ্যে বাড়ছে মারাত্মক অপুষ্টি।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের বার্তা স্পষ্ট—কয়েকটি দেশের কায়েমি স্বার্থ ও যুদ্ধের মাশুল দিতে গিয়ে গোটা বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত অনাহারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।