বিশ্বভারতীর মুকুটে নতুন পালক, শান্তিনিকেতনে তৈরি হচ্ছে ধ্রুপদী বাংলার উৎকর্ষ কেন্দ্র!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত! কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন পালক। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক বিশ্বভারতীকে ‘ধ্রুপদী বাংলা ভাষার উৎকর্ষ কেন্দ্র’ (Center of Excellence) হিসেবে নির্বাচন করেছে।

রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন থেকেই এবার ধ্রুপদী বাংলা ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উচ্চতর গবেষণা ও বিশ্বব্যাপী প্রসারে সূচিত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়।

এই উৎকর্ষ কেন্দ্র থেকে কী কী বড় কাজ হবে?

  • প্রাচীন পুঁথি ডিজিটাইজেশন: বাংলা ভাষার দুর্লভ প্রাচীন পুঁথি, ঐতিহাসিক নথি ও বিরল গ্রন্থগুলো ডিজিটাইজ করে চিরতরে সংরক্ষণ করা হবে।
  • উচ্চতর গবেষণা ও সম্মান: দেশ-বিদেশের বরিষ্ঠ গবেষকদের জন্য বিশেষ ফেলোশিপ ও গবেষণা-পদ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হবে বার্ষিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মান।
  • বিশ্বমানের অনুবাদ: বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে কালজয়ী সৃষ্টিগুলো অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা হবে। একইভাবে অন্যান্য ভাষার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যও বাংলায় অনূদিত হবে।
  • বহুবিষয়ক চর্চা: কেবল ভাষা ও সাহিত্য নয়; ইতিহাস, সঙ্গীত, নৃত্য এবং দর্শনের সঙ্গে যোগসূত্র রেখে সমন্বিত গবেষণার পথ উন্মুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ৫টি ধ্রুপদী ভাষা—আসামিয়া, বাংলা, মরাঠি, পালি এবং প্রাকৃতের জন্য ৫টি পৃথক উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ার অনুমোদন দিয়েছে। তার মধ্যেই বাংলা ভাষার মূল কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বভারতীকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা বাঙালি ও বাংলা ভাষাপ্রেমীদের জন্য এক অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *