জোড়া বিষের ইঞ্জেকশনও ব্যর্থ! খুনি ক্রিস্টারের অলৌকিক বেঁচে ফেরায় তোলপাড় আমেরিকা
বার্তা ডেস্কঃ
ফাঁসির আদেশে সাধারণত লেখা থাকে— ‘Hanged by neck until death’, অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা। যাতে আইনের ফাঁক গলে কেউ বেঁচে না যেতে পারেন। ব্রিটিশ আমলে নাকি নিয়মের এমনই এক ফাঁক গলিয়ে এক স্বদেশী উকিল এক বিপ্লবীকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন! ফাঁসির আদেশে শুধু ঝোলানোর কথা ছিল, কিন্তু কতক্ষণ বা কীভাবে ঝোলাতে হবে তা স্পষ্ট না থাকায় ওই উকিল মক্কেলকে ছাড়িয়ে নিয়েছিলেন বলে মুখে মুখে গল্প শোনা যায়।
তবে আমেরিকার টেনেসিতে যা ঘটেছে, তা কোনো রূপকথা নয়, একেবারে রোমহর্ষক বাস্তব। মার্কিন মুলুকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চমকে গেছে গোটা বিশ্ব। খুনের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেল পিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে শরীরে পুশ করা হয়েছিল বিষাক্ত ইঞ্জেকশন— একটি নয়, একেবারে জোড়া ইঞ্জেকশন! কিন্তু এত কিছুর পরও মরেননি ক্রিস্টা। উল্টে তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর এই ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে ট্রাম্পের দেশে।
কে এই ক্রিস্টা গেল পিকে? ঘটনাটি ১৯৯৫ সালের। মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের সহপাঠীকে খুন করার অভিযোগ ওঠে ক্রিস্টার বিরুদ্ধে। তার সন্দেহ ছিল, ওই সহপাঠী তার প্রেমিকের জিনিসপত্র চুরির চেষ্টা করছে। ১৯৯৬ সালে আদালত ক্রিস্টাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। ১৯৭৬ সালের পর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৯তম এবং সবচেয়ে কম বয়সি মহিলা হিসেবে রেকর্ড গড়ে সে। টেনেসিতে এর আগে শেষ কোনো মহিলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল প্রায় ২০৬ বছর আগে!
১৯৯৬ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিভৃত কারাবাসে বন্দি ছিলেন ক্রিস্টা। আইনি লড়াইয়ে সব আবেদন খারিজ হওয়ার পর চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন ধার্য হয়।
কী ঘটেছিল সেদিন? জেল আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার বিষের ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর ক্রিস্টা কেবল তাঁর হাতে জ্বালা করার কথা জানান। তবে তাঁর মধ্যে অচেতন হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এরপর দ্বিতীয় ইঞ্জেকশন পুশ করার পর ক্রিস্টা জ্ঞান হারালেও সকলের সামনেই নাক ডেকে ঘুমাতে শুরু করেন! নিয়মের বেড়াজালে তাঁকে তৃতীয় কোনো ইঞ্জেকশন দেওয়া সম্ভব হয়নি, কিন্তু তাঁর জ্ঞানও আর ফেরেনি।
বর্তমানে ক্রিস্টা একটি হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে চিকিৎসাধীন। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল মৃত্যুদণ্ডের, আর জেল প্রশাসন তাঁকে বানিয়ে দিল জীবন্মৃত! আমেরিকার মতো দেশে বিষের ইঞ্জেকশনে কি তবে ভেজাল ছিল? এই প্রশ্ন তুলে টেনেসি প্রদেশের গভর্নর ঘটনার উচ্চপর্যায় নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আপাতত রাজ্যের সমস্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইতিহাস বলে, রাশিয়ার কিংবদন্তি ধর্মগুরু রাসপুতিনকে বিষ ও গুলি করেও সহজে মারা যায়নি। ক্রিস্টার বেঁচে যাওয়ার এই অলৌকিক ঘটনা দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে— বাংলায় যাকে বলে, “রাখে হরি তো মারে কে!”