পুলিশ নিষ্ক্রিয়! এসআরএফটিআই-তে ধুন্ধুমার, নিরাপত্তার দাবিতে ঘেরাও উপাচার্য

বার্তা ডেস্কঃ

গত সপ্তাহের পর রবিবার ফের একবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। একটি হিন্দু সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও উত্তেজনায় কাঁপল ক্যাম্পাস। অভিযোগ, মিছিল থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে বৃষ্টির মতো জলের বোতল ও পাথর ছোড়া হয়। ঘটনায় অন্তত ৪ জন পড়ুয়া এবং ৫ জন অধ্যাপক গুরুতর আহত হয়েছেন। মাথা ফেটেছে দুই ছাত্রীর। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা এবং রেজিস্ট্রারকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘেরাও করে রাখেন ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা।

কী ঘটেছিল রবিবার? প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রবিবার বিকেলে হিন্দু সংগঠনের মিছিলটি এসআরএফটিআই-এর গেটে পৌঁছলে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়। বাইরে থেকে ক্রমাগত উড়ে আসতে থাকে ইট ও বোতল। পড়ুয়াদের আড়াল করতে গিয়ে পাথরের ঘায়ে আহত হন খোদ অধ্যাপকরা। এমনকী, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রেসিডেন্সি ও যাদবপুরের কয়েকজন পড়ুয়া (যাঁরা ব্যান্ড প্র্যাকটিসের জন্য এসেছিলেন), তাঁরাও বেধড়ক মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ।

পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের অভিযোগ, চোখের সামনে এমন তাণ্ডব চললেও পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

পালটা হুঁশিয়ারি হিন্দু সংগঠনের: হিন্দু সংগঠনটির পালটা দাবি, ক্যাম্পাসের ভেতর থেকেও তাদের ওপর বোতল ছোড়া হয়েছে। সংগঠনের এক নেতা মোহিত সাউ কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “এরা কেউ স্টুডেন্ট নয়, এরা নকশাল। এবার আর লাভ লেটার চলবে না, যে ভাষা বুঝবে সেই ভাষাতেই বোঝাব। হাত-পা চলবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: এসআরএফটিআই-এর ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “নাস্তিক ও জামাতিরা ভয় পেয়ে একজোট হয়েছে। এরা যত আক্রমণ করবে গেরুয়া তত শক্তিশালী হবে। স্যাফ্রনের ওপর অ্যাটাক করতে দিন, স্যাফ্রনই জবাব দেবে।”

উত্তাপ যাদবপুরেও: এসআরএফটিআই-এর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা। বয়কট করা হয়েছে সমস্ত ক্লাস। অন্যদিকে, এই হামলার আঁচ গিয়ে পড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও। সোমবার সেখানে এসআরএফটিআই-কাণ্ডের প্রতিবাদে একটি কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সেখানে রাজনৈতিক নেতাদের (যেমন সিপিএম বা আইসা নেতা) উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা করেছে এবিভিপি। ফলে যাদবপুর ক্যাম্পাস ঘিরেও নতুন করে ঘনিয়েছে উত্তেজনার মেঘ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *