রেজিনগরে ভোটের সকালেই তুলকালাম, গ্রেফতার হুমায়ুন কবীর!

বার্তা ডেস্কঃ

রেজিনগর: উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতেই চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ভোটের সকালেই বিধায়কের গ্রেফতারির ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

পুলিশের সঙ্গে বচসা, তারপরই গ্রেফতার মঙ্গলবার সকালে শক্তিপুরের ভোটকেন্দ্রে সপরিবারে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন হুমায়ুন কবীর। সেখান থেকে তিনি রেজিনগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। অভিযোগ, সেখান থেকে আরও কয়েকটি বুথ পরিদর্শনে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়। এরপরেই গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ জোরপূর্বক তাঁকে গাড়িতে তুলে রেজিনগর থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেফতার ঘোষণা করা হয়।

বিজেপি ও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ গ্রেফতার হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন নওদার বিধায়ক। বিজেপি ও পুলিশকে নিশানা করে তিনি বলেন, “ভোটের লড়াইয়ে ভয় পেয়ে পুলিশকে ব্যবহার করছে বিজেপি। সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। আমাদের দলের ৬৪ জন সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এসব করেও বিজেপি জিততে পারবে না। জাঁকিয়ে আক্রমণ চালালে ওদের ভোটের ঝুলি আরও খালি হবে।” সেই সঙ্গে অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ ও কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করেন তিনি।

ছেলের ভোটের দিনেই বাবা শ্রীঘরে উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হন হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিলে সেখানে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। এই উপনির্বাচনে নিজের দল থেকে ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন। ছেলের ভাগ্যপরীক্ষার দিনেই বাবার গ্রেফতারির ঘটনায় রাজনৈতিক শোরগোল চরমে পৌঁছেছে।

বর্তমানে রেজিনগরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের কাছে জমা পড়া রিপোর্টে পুলিশ প্রশাসন এই গ্রেফতারির কী ব্যাখ্যা দেয়, এখন সেদিকেই নজর সব শিবিরের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *